কলকাতা, ১৪ আগস্ট (আইএএনএস): পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর সঙ্গে যোগসূত্রের অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া থেকে গ্রেফতার হওয়া পাকিস্তানি নাগরিক ওয়াহাব আলমের নেপাল-ভিত্তিক পাঁচ সহযোগীর নাম জানতে পেরেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। তদন্তকারীদের হাতে থাকা আলমের নেটবুকের তথ্য বিশ্লেষণ করেই এই পাঁচজনের পরিচয় পাওয়া গেছে বলে সূত্রের খবর।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, নেটবুকের তথ্য উদ্ধারের পর এসটিএফ আধিকারিকরা দীর্ঘক্ষণ আলমকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জেরার মুখে আলম পাকিস্তানে থাকা আইএসআই হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে কীভাবে নেপাল-ভিত্তিক ওই পাঁচ ব্যক্তিকে ব্যবহার করত, তার বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।
এসটিএফ সূত্রের দাবি, নেপালে আলমের মালিকানাধীন ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্বে ছিল ওই পাঁচজন। তবে তদন্তকারীদের অনুমান, ব্যবসার দেখভালের পাশাপাশি পাকিস্তানে থাকা আইএসআই হ্যান্ডলারদের সঙ্গে আলমের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবেও তারা কাজ করত।
রাজ্য পুলিশের এক আধিকারিকের বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলির নজর এড়াতেই আলম সরাসরি পাকিস্তানের আইএসআই হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ না রেখে নেপালের মাধ্যমে পরোক্ষ যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করেছিল। ২০১২ সালে নেপাল হয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশের পর থেকেই সে নিয়মিত নেপালে যাতায়াত করত বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
আলমের নেটবুক এবং জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ‘পাভেল’ নামে আরও এক ব্যক্তির সন্ধান পেয়েছে এসটিএফ। ওই ব্যক্তি প্রতিবেশী বাংলাদেশের যশোরে অবস্থান করে বলে তদন্তকারীদের দাবি।
নেপাল ও বাংলাদেশে থাকা সন্দেহভাজনদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রকের কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দুই দেশের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
তদন্তকারীরা আরও জানতে পেরেছেন, আলম বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল এবং সেখানে পাভেলের সঙ্গে তার দেখা করার কথা ছিল। পাভেল বাংলাদেশে আলমের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার কথা ছিল বলে জানা গেছে। সেখানে কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর পশ্চিমবঙ্গে নতুন দায়িত্ব সম্পর্কে আলমকে তথ্য দেওয়া এবং পরে তাকে রাজ্যে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।
এসটিএফ এখন নেপাল ও বাংলাদেশে থাকা সন্দেহভাজন সহযোগীদের ভূমিকা এবং আলমের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের প্রকৃতি খতিয়ে দেখছে। একইসঙ্গে পাকিস্তানি আইএসআই-এর সঙ্গে এই নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য যোগসূত্র নিয়েও তদন্ত চলছে।



















