আমবাসা, ১৪ আগস্ট: আমবাসা মোটরস্ট্যান্ডে পতাকা লাগানোকে কেন্দ্র করে শুক্রবার উত্তেজনা ছড়াল। তিপ্রা মথার কয়েকজন কর্মী মোটরস্ট্যান্ডে গিয়ে ভারতীয় মজদুর সংঘের পতাকা খুলে সেখানে তিপ্রা মথার পতাকা লাগিয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে স্ট্যান্ডের যানচালকরা একজোট হয়ে এর প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিপ্রা মথার কর্মী-সমর্থকরা পতাকা খুলে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই আমবাসা মোটরস্ট্যান্ড পরিচালনা নিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। সম্প্রতি মোটরস্ট্যান্ড পরিচালনার জন্য নতুন করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। এর মধ্যেই শুক্রবার সকালে ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়।
স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে এদিন সকালে মোটরস্ট্যান্ডের যানচালকরা সাফাই অভিযান চালাচ্ছিলেন। সেই সময় কয়েকজন তিপ্রা মথার কর্মী মোটরস্ট্যান্ডে এসে ভারতীয় মজদুর সংঘের পতাকা খুলে সেখানে তিপ্রা মথার পতাকা লাগিয়ে দেন বলে অভিযোগ। মোটরস্ট্যান্ড চত্বরেও দলের পতাকা লাগানো হয়।
ঘটনা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্ট্যান্ডের যানচালকরা। তাদের বক্তব্য, ভারতীয় মজদুর সংঘ একটি অরাজনৈতিক শ্রমিক সংগঠন। মোটরস্ট্যান্ডে কোনও রাজনৈতিক দলের পতাকা লাগানো উচিত নয়। স্বাধীনতা দিবসের আগে সাফাই অভিযান চলাকালীন এই ঘটনায় তারা আপত্তি জানান।
অন্যদিকে, তিপ্রা মথার কর্মীদের দাবি, বেশ কয়েক মাস ধরে আমবাসা মোটরস্ট্যান্ড পরিচালনাকে কেন্দ্র করে সমস্যা চলছে। তাদের অভিযোগ, একটি কমিটি বেআইনিভাবে স্ট্যান্ড দখল করে যানচালকদের হয়রানি করছে। বিষয়টি দলের নেতৃত্বের নজরে আসার পর স্ট্যান্ডের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশ অনুযায়ী তারা এদিন মোটরস্ট্যান্ডে যান বলে দাবি করেন তিপ্রা মথার কর্মীরা।
তাদের আরও দাবি, স্ট্যান্ডে গিয়ে পরিকাঠামোর বেহাল অবস্থা দেখতে পান তারা। তাই স্ট্যান্ড পরিচালনার জন্য নতুন করে সকলকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে এবং সেই কমিটির মাধ্যমেই মোটরস্ট্যান্ড পরিচালনা করা হবে বলে জানান তারা। নতুন কমিটি গঠন না হওয়া পর্যন্ত স্ট্যান্ডে কোনও ধরনের ছাড়পত্র কাটা যাবে না বলেও দাবি করা হয়।
তবে তিপ্রা মথার এই অবস্থানের বিরোধিতা করেন স্ট্যান্ডের যানচালকরা। তাঁরা একজোট হয়ে তিপ্রা মথার কর্মী-সমর্থকদের বাধা দেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বুঝতে পেরে শেষ পর্যন্ত তিপ্রা মথার কর্মীরা মোটরস্ট্যান্ড থেকে নিজেদের পতাকা খুলে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তবে মোটরস্ট্যান্ড পরিচালনাকে ঘিরে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে আগামী দিনে ফের উত্তেজনা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।


















