আগরতলা, ১৩ আগস্ট: স্বাধীনতা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দেশাত্মবোধের আবহে বিশেষ সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করতে চলেছে মহারাজা বীর বিক্রম (এমবিবি) কলেজ। আগামী ১৫ আগস্ট সকাল সাড়ে ৬টায় কলেজ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে ‘সহস্রকণ্ঠে বন্দে মাতরম’। এই অনুষ্ঠানে একসঙ্গে ১৩০০-রও বেশি কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহ অব্যাহত থাকায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ১৪০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেও জানিয়েছেন আয়োজকরা।
বৃহস্পতিবার আগরতলায় কলেজ প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমবিবি কলেজ মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক গৌতম সাহা জানান, স্বাধীনতা দিবসের চেতনার সঙ্গে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে দেশাত্মবোধ ও জাতীয় চেতনা আরও গভীর করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে কলেজের প্রাক্তনীরাও অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানান তিনি।
‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০তম বর্ষ উদযাপনকে কেন্দ্র করেই এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত এই গান ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রথমে এক হাজার ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও কর্মীর অংশগ্রহণের লক্ষ্য নিয়েছিল। কিন্তু ছাত্রছাত্রীদের ব্যাপক উৎসাহে ইতিমধ্যেই অংশগ্রহণের জন্য ১৩০০-র বেশি নাম নথিভুক্ত হয়েছে।
এমবিবি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. অর্জুন গোপ জানান, প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে এটি একটি বিশেষ উদ্যোগ। তাঁর কথায়, ১৯৫০ সাল থেকে সাধারণভাবে ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রথম দুটি স্তবকই পরিবেশিত হয়ে আসছে। তবে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০তম বর্ষ উপলক্ষে এমবিবি কলেজে এবার ছয়টি স্তবকই একসঙ্গে হাজারেরও বেশি কণ্ঠে পরিবেশন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
অধ্যক্ষের দাবি, এত বিপুল সংখ্যক মানুষের সম্মিলিত কণ্ঠে সম্পূর্ণ ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের ঘটনা ত্রিপুরার ক্ষেত্রে নজিরবিহীন হতে পারে। স্বাধীনতা সংগ্রামে ‘বন্দে মাতরম’-এর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি। ত্রিপুরার সর্বস্তরের মানুষ এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ও বিদেশে থাকা এমবিবি কলেজের প্রাক্তনীদেরও সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ড. মহুয়া আচার্য জানান, শুরুতে এক হাজার অংশগ্রহণকারীর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় ছিল। কিন্তু ছাত্রছাত্রীদের প্রবল উৎসাহে সেই সংখ্যা ইতিমধ্যেই ১৩০০ ছাড়িয়েছে। এমবিবি কলেজের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় তৈরি করার ইচ্ছা থেকেই ছাত্রছাত্রীদের এই বিপুল সাড়া বলে জানান তিনি।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের কাছে এই উদ্যোগকে তুলে ধরার আবেদন জানানো হয়েছে। ত্রিপুরা থেকে দেশ ও দেশের বাইরেও দেশাত্মবোধের বার্তা পৌঁছে দেওয়াই তাঁদের লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, ১৯৪৭ সালের ৯ সেপ্টেম্বর এমবিবি কলেজে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। দীর্ঘ কয়েক দশকে এই প্রতিষ্ঠান থেকে বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব উঠে এসেছেন। জাতীয় শিক্ষা নীতির ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে দেশাত্মবোধ ও জাতীয় চেতনা গড়ে তোলার প্রচেষ্টারই প্রতিফলন হিসেবে এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন বলে জানিয়েছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ।



















