রাঁচি, ১৩ আগস্ট (আইএএনএস): জেপিএসসি ও জেএসএসসি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে চলা ছাত্র আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচিকে ঘিরে ঝাড়খণ্ডে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আগামী ২০ আগস্ট মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাওয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন আন্দোলনকারী ছাত্ররা। যদিও আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কাঁকে রোডে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন এবং সংলগ্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের নিরাপত্তায় ১০০-র বেশি অতিরিক্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ঝাড়খণ্ড জাগুয়ার এবং ঝাড়খণ্ড আর্মড পুলিশের কর্মীরাও রয়েছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে সূচনা ভবন চৌক থেকে রাম মন্দির চৌক পর্যন্ত ব্যারিকেড দিয়ে একটি নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের প্রায় ৫০০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে নিরাপত্তা আরও কড়া করা হয়েছে। সূচনা ভবন থেকে এটিআই-এর দিকে যাওয়া রাস্তাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গোটা এলাকার উপর ড্রোন ক্যামেরা এবং অন্যান্য নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে নজর রাখা হচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার হওয়ায় কাঁকে রোডে যান চলাচলেও প্রভাব পড়েছে। মোরাবাদি এবং কচেরি চৌকের দিক থেকে আসা যানবাহনগুলিকে যানজট এড়াতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিকল্প পথে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
জেপিএসসি ও জেএসএসসি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের প্রতিবাদে প্রায় ২০ দিন ধরে জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে অবস্থান-বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন ছাত্ররা। পরীক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার এবং বিতর্কিত জেপিএসসি ও জেএসএসসি নিয়োগ পরীক্ষার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন তাঁরা।
রাজ্য সরকার আন্দোলনকারীদের প্রায় ৯০ শতাংশ দাবি মেনে নিলেও অন্যতম প্রধান দাবি—জেপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা এবং জেএসএসসি-সিজিএল পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের সিবিআই তদন্ত—এখনও পূরণ হয়নি।
গত ১০ আগস্ট ছাত্ররা ঝাড়খণ্ড বিধানসভা ঘেরাওয়ের কর্মসূচি নেয়। সেই সময় পুলিশের সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে এবং পরে লাঠিচার্জও করে। ঘটনার পর আন্দোলন আরও তীব্র করার ঘোষণা দেয় ছাত্র সংগঠনগুলি।
আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁদের প্রধান দাবিগুলির বিষয়ে সরকার সঠিক সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
এদিকে কংগ্রেস ও বিজেপি-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ছাত্রদের আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারের উপর চাপ বাড়াচ্ছে। এর আগে বিজেপি নেতারা মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখান। পরে পুলিশ তাঁদের আটক করে।
—আইএএনএস

















