আগরতলা, ১২ আগস্ট: স্মার্ট মিটার সংক্রান্ত সমস্যা এবং বিদ্যুতের বাড়তি মাশুলের কারণে সাধারণ গ্রাহকরা বর্তমানে দ্বৈত সংকটের মুখে পড়েছেন। আজ সাংবাদিক সম্মেলনে স্মার্ট মিটার স্থাপন, বিদ্যুতের মাশুল বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থার ক্রমবর্ধমান ভূমিকা নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রাক্তন বিদ্যুৎমন্ত্রী তথা বর্তমান বামফ্রন্টের রাজ্য আহ্বায়ক মানিক দে।
মানিক দে বলেন, বামফ্রন্ট সরকারের আমলে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার স্মার্ট মিটার বসানো হয়েছিল। সেই সময় রাজ্যে মোট বিদ্যুৎ গ্রাহকের সংখ্যা ছিল প্রায় ৭ লক্ষ ৭০ হাজার। কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক অর্থদাতা সংস্থাগুলির কিছু শর্তের পরিপ্রেক্ষিতেই পরীক্ষামূলকভাবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
তাঁর বক্তব্য, বাম আমলে স্মার্ট মিটার নিয়ে তেমন কোনও বড় ধরনের জনঅসন্তোষ বা ব্যাপক অভিযোগ দেখা যায়নি। কারণ মিটার বসানো, রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রয়োজন হলে পরিবর্তনের দায়িত্ব ছিল রাজ্যের নিজস্ব বিদ্যুৎ সংস্থার হাতে। কিন্তু ২০১৮ সালের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সর্বত্র স্মার্ট মিটার চালুর উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলিকে মিটার স্থাপন ও সংশ্লিষ্ট কাজে যুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
স্মার্ট মিটার বিকল হলে কিংবা বিদ্যুতের বিল নিয়ে কোনও অসঙ্গতি দেখা দিলে তার দায় কে নেবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মানিক দে। তিনি বলেন, “মূল অভিযোগ এখন পুরনো ও নতুন মিটারের রিডিংয়ের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে।” তাঁর অভিযোগ, অনেক গ্রাহককে বেশি বিলের বোঝা বহন করতে হচ্ছে, অথচ এই বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে না।
স্মার্ট মিটার নিয়ে জনসাধারণের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে প্রযুক্তিগত কমিটি গঠন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, যে সংস্থাগুলি মিটার তৈরি ও স্থাপনের সঙ্গে যুক্ত, তাদেরই মিটারের কার্যকারিতা ও ত্রুটির জন্য জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।
বিদ্যুতের মাশুল প্রসঙ্গেও রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেন বামফ্রন্ট আহ্বায়ক। তাঁর দাবি, গৃহস্থালি গ্রাহকদের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোওয়াটে ৭০ টাকা নির্দিষ্ট চার্জ নেওয়া হচ্ছে এবং ন্যূনতম তিন কিলোওয়াট লোড ধরা হচ্ছে। এর সঙ্গে বিভিন্ন অতিরিক্ত চার্জ, ফুয়েল চার্জ এবং মিটার সংক্রান্ত খরচ যুক্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষের উপর বিদ্যুতের ব্যয়ের চাপ আরও বাড়ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিন ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি কর্পোরেশন লিমিটেডের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মানিক দে। তাঁর দাবি, সংস্থাটির ক্ষতির পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ১,২০০ থেকে ১,৪০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। রাজ্যের নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়া, বিদ্যুৎ চুরি, ত্রুটিপূর্ণ মিটার এবং বকেয়া অর্থ আদায়ে ব্যর্থতাকেই এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। গোমতী, রুখিয়া ও ডুম্বুরের মতো বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলিতে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলেও দাবি করেন তিনি। এর ফলে বাইরে থেকে বিদ্যুৎ কেনার উপর রাজ্যের নির্ভরতা বাড়ছে বলে অভিযোগ তাঁর।
মানিক দে আরও সতর্ক করে বলেন, বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বেসরকারিকরণ ক্রমশ বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে রাজ্যের নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। শেষ পর্যন্ত এর আর্থিক বোঝা সাধারণ গ্রাহকদের উপরই গিয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। স্মার্ট মিটার ও বিদ্যুতের বিল নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি গোটা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান প্রাক্তন বিদ্যুৎমন্ত্রী।



















