রাঁচি, ১২ আগস্ট (আইএএনএস): নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে পড়ুয়াদের চলমান আন্দোলন বুধবার ২০ দিনে পড়ল। বিধানসভা ঘেরাও, পুলিশের পদক্ষেপ এবং সরকারের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা হলেও এখনও কোনও সমাধানসূত্র বের হয়নি। দুই প্রধান দাবি নিয়ে সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে।
আন্দোলনকারীদের প্রথম দাবি হল ২০২৪ সালের জেএসএসসি-সিজিএল পরীক্ষা বাতিল করা। এই পরীক্ষার মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ২ হাজারের বেশি নিয়োগ হয়েছে এবং নির্বাচিত প্রার্থীরা বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দফতরে কর্মরত। রাজ্য সরকারের যুক্তি, এই পর্যায়ে পরীক্ষা বাতিল করা বাস্তবসম্মত নয়। অনিয়মের অভিযোগ ইতিমধ্যেই খতিয়ে দেখা হয়েছে এবং বিষয়টি ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে বিচারবিভাগীয় পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়েও গিয়েছে।
সরকারের দাবি, আদালতের নির্দেশে নিয়োগের পথ পরিষ্কার হওয়ার পরেই নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। একইসঙ্গে পরীক্ষায় ওঠা অভিযোগের তদন্ত রাজ্য সিআইডি করছে বলেও সরকারি আধিকারিকরা জানিয়েছেন।
তবে পড়ুয়াদের একাংশ সিআইডি তদন্তের নিরপেক্ষতা ও মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের অভিযোগ, পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের বিষয়ে আদালতের সামনে পর্যাপ্ত প্রমাণ তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে সিআইডি। এর ফলেই নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে তাদের দাবি।
পরীক্ষার আয়োজনে যুক্ত আউটসোর্সিং সংস্থা টিডিএপিএল-এর সঙ্গে সম্পর্কিত অভয় তিওয়ারির গ্রেফতারকেও নিজেদের অভিযোগের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন আন্দোলনকারীরা। পড়ুয়াদের দাবি, তিওয়ারি ওই সংস্থায় মার্কেটিং ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন এবং পরবর্তীতে একই পরীক্ষার মাধ্যমে ব্লক সাপ্লাই অফিসার পদে নির্বাচিত হন। তাঁর গ্রেফতার নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে বলে আন্দোলনকারীদের দাবি।
তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র কোনও ব্যক্তির গ্রেফতার হওয়া বড় ধরনের অনিয়মের বিচারবিভাগীয় প্রমাণ নয় এবং এর ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরীক্ষা বাতিলও করা যায় না। চলমান তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ফলাফলের উপরই বিষয়টির পরিণতি নির্ভর করবে।
পড়ুয়াদের দ্বিতীয় প্রধান দাবি হল জেপিএসসি এবং জেএসএসসি-এর মাধ্যমে পরিচালিত বিতর্কিত সমস্ত নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের সিবিআই তদন্ত। এই দাবিতেও রাজ্য সরকার এখনও সম্মতি দেয়নি। পরিবর্তে অবসরপ্রাপ্ত এক বিচারপতির নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে বিষয়গুলি খতিয়ে দেখার প্রস্তাব দিয়েছে সরকার।
আন্দোলনকারী পড়ুয়া নেতারা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন সংস্থার তদন্তের উপর তাঁরা ইতিমধ্যেই আস্থা হারিয়েছেন। তাই তাঁরা একটি স্বাধীন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত চান।
আন্দোলনকারীদের কাছে সিবিআই তদন্তের দাবি শুধু একটি দাবি নয়, রাজ্যের নিয়োগ প্রক্রিয়ার উপর সাধারণ মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধারের একটি উপায়। ফলে দুই পক্ষের অবস্থান এখনও অনড় থাকায় ২০ দিন পরেও ঝাড়খণ্ডের পড়ুয়াদের আন্দোলন ঘিরে অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে।
–


















