তিরুবনন্তপুরম, ১২ আগস্ট (আইএএনএস): সিপিআই(এম) নেতা তথা কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের বাসভবনে আসা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর আধিকারিকদের উপর কথিত হামলার তদন্ত আরও বিস্তৃত করতে চলেছে কেরল পুলিশ। এই লক্ষ্যে বিশেষ তদন্তকারী দলে আরও আধিকারিককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গত ২৭ মে বিজয়নের ভাড়া নেওয়া ওই বাসভবনে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। তাঁর মেয়ে বীণা বিজয়নও ওই বাড়িতে থাকেন। তাঁর তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা এক্সালজিক এবং কোচিভিত্তিক খনন সংস্থা সিএমআরএল-এর মধ্যে লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়েই এই তল্লাশি চালানো হয়েছিল।
হামলার ঘটনায় বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ২৫ জন মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে চলতি মাসের গোড়া পর্যন্ত জেলে ছিলেন। বর্তমানে একজন জেলে রয়েছেন এবং আরও একজন পলাতক বলে জানা গিয়েছে।
মামলার সঙ্গে যুক্ত সূত্রের দাবি, তদন্তকারী দল সম্প্রসারণের অন্যতম কারণ হল ঘটনাস্থলে উপস্থিত সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক এম. ভি. গোবিন্দন-সহ দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি। তদন্তের গুরুত্ব এবং হামলার পিছনে বৃহত্তর কোনও ষড়যন্ত্র ছিল কি না, সেই সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে আরও সাব-ইন্সপেক্টর ও সিভিল পুলিশ অফিসারকে দলে নেওয়া হয়েছে।
তদন্তকারীরা এখন ঘটনার আগে কথিত পরিকল্পনা এবং যোগাযোগের বিষয়েও নজর দিচ্ছেন। আগামী সপ্তাহে গোবিন্দন, তিরুবনন্তপুরম জেলা সম্পাদক ভি. জয় এবং প্রাক্তন মন্ত্রী ভি. শিবনকুট্টিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির হতে নোটিস দেওয়া হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
ইডি আধিকারিকদের উপর হামলা পূর্বপরিকল্পিত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ফল ছিল কি না, নাকি ঘটনায় কাউকে উসকানি দেওয়া হয়েছিল—তা খতিয়ে দেখাই জিজ্ঞাসাবাদের অন্যতম লক্ষ্য। একইসঙ্গে হামলার পিছনে বৃহত্তর কোনও ষড়যন্ত্র ছিল কি না এবং ইডি আধিকারিকদের সফরকে প্রভাবিত করতে সংগঠিতভাবে লোকজনকে জড়ো করা হয়েছিল কি না, তাও তদন্ত করা হচ্ছে।
সিপিআই(এম)-এর শীর্ষ নেতাদের মোবাইল ফোন ও কল রেকর্ডের সাইবার ফরেনসিক পরীক্ষার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন তদন্তকারীরা। ঘটনার আগে ও চলাকালীন কী ধরনের যোগাযোগ হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ঘটনার ধারাবাহিকতা এবং হামলার আগে কোনও নির্দেশ বা পরিকল্পনা আদানপ্রদান হয়েছিল কি না, সে সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তদন্তকারীরা শুধু ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের ভূমিকা নয়, অন্য কোথাও থেকে কোনও নির্দেশ, তথ্য বা বার্তা পাঠানো হয়েছিল কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন।
তদন্তকারী দল সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত থেকেই স্পষ্ট যে কেরল পুলিশ ঘটনাটিকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক কর্মী ও তদন্তকারী আধিকারিকদের মধ্যে আকস্মিক সংঘর্ষ হিসেবে দেখছে না। হামলার পিছনে কোনও সমন্বিত প্রচেষ্টা ছিল কি না, সেটিও এখন তদন্তের অন্যতম প্রধান দিক।
–আইএএনএস



















