নয়াদিল্লি, ১২ আগস্ট (আইএএনএস): ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলির কার্যকলাপের ধরনে বড় পরিবর্তন এসেছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে। লস্কর-ই-তৈবা ধীরে ধীরে সক্রিয়তা বাড়ালেও হিজবুল মুজাহিদিন এবং জইশ-ই-মহম্মদ তুলনামূলকভাবে নিষ্ক্রিয় রয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হল, এই তিন জঙ্গি সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব আর সরাসরি অভিযান পরিচালনা করছে না। তাদের কার্যকলাপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই)।
সূত্রের দাবি, তিনটি জঙ্গি সংগঠনের কার্যকলাপ তদারকির জন্য একজন ব্রিগেডিয়ার এবং একজন কর্নেলকে দায়িত্ব দিয়েছে আইএসআই। ওই দুই আধিকারিকের অনুমোদন পাওয়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
এক গোয়েন্দা আধিকারিকের দাবি, শীর্ষ নেতৃত্বের এই পুনর্গঠনের ফলে জঙ্গি সংগঠনগুলির কার্যকলাপ পরিচালনার পদ্ধতিতেও পরিবর্তন এসেছে। তাঁর কথায়, “এই পুনর্গঠনের পর অভিযানের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সমন্বয় তৈরি হয়েছে।”
গোয়েন্দা সংস্থাগুলির কাছে খবর, সীমান্তের ওপারে ৫০০-রও বেশি জঙ্গি নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। আগে লস্কর-ই-তৈবা, হিজবুল মুজাহিদিন এবং জইশ-ই-মহম্মদের পৃথক কমান্ড সেন্টার ও অপারেশনাল প্রধান ছিল। নতুন ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত বিষয়গুলি ব্রিগেডিয়ার ইকবাল এবং কর্নেল ওয়াইজ দেখছেন বলে সূত্রের দাবি।
আগে পাঁচ-ছয়জন জঙ্গি একসঙ্গে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করত বলে গোয়েন্দা সূত্রের দাবি। এখন একবারে তিনজনকে পাঠানোর কৌশল নেওয়া হয়েছে। ওই দলে লস্কর, জইশ এবং হিজবুল মুজাহিদিনের একজন করে সদস্য থাকার কথা।
গোয়েন্দা আধিকারিকদের মতে, তিন সংগঠনের মধ্যে আরও বেশি সমন্বয় নিশ্চিত করতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে। অনুপ্রবেশের নির্দেশও সংশ্লিষ্ট জঙ্গি সংগঠনের নেতা বা হ্যান্ডলারদের বদলে সরাসরি আইএসআই আধিকারিকদের কাছ থেকে আসছে বলে দাবি করা হয়েছে।
উসানাস ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ড. অভিনব পান্ড্যার মতে, বেশ কয়েকটি জঙ্গি সংগঠন বর্তমানে নিজেদের কৌশল নতুন করে সাজাতে ইচ্ছাকৃতভাবে কিছুটা নিষ্ক্রিয় রয়েছে। তাঁর দাবি, ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপের পর হিজবুল মুজাহিদিন তাদের কার্যকলাপ চালিয়ে যেতে বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়েছে। সেই কারণেই আইএসআই তিনটি সংগঠনের মধ্যে পূর্ণ সমন্বয় তৈরি করে তাদের কার্যকলাপের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিচ্ছে বলে তাঁর মত।
ড. পান্ড্যার আরও দাবি, জঙ্গি সংগঠনগুলির প্রধানদের পরিচয় আড়াল রাখতেও এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনও সন্ত্রাসবাদী হামলার সঙ্গে পাকিস্তানের সরাসরি যোগ যাতে প্রকাশ্যে না আসে, সে জন্য ইসলামাবাদ তাদের ‘প্রক্সি’ সংগঠনের মাধ্যমে ভারতের অভ্যন্তরে হামলার চেষ্টা করতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গোয়েন্দা সূত্রের মতে, এলওসি-র পাশাপাশি জম্মু ও কাশ্মীরে স্থানীয় যুবকদেরও জঙ্গি সংগঠনে নিয়োগের চেষ্টা করছে আইএসআই। স্থানীয়ভাবে নিয়োগের ক্ষেত্রে কাশ্মীরের ধর্মীয় নেতাদের উপর তুলনামূলক কম নির্ভর করে আফগানিস্তান ও আফ্রিকায় থাকা তাদের সহযোগীদের মাধ্যমে যুবকদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি।
নিয়োগের পর ওই যুবকদের ‘লোন উলফ’ হামলার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রের দাবি। স্থানীয় উপকরণ ব্যবহার করে ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর হামলা চালানোর জন্য তাদের ব্যবহার করা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
এক আধিকারিকের মতে, এই কৌশলের মাধ্যমে পাকিস্তান সম্ভাব্য হামলার ক্ষেত্রে নিজেদের যোগসূত্র আড়াল করার চেষ্টা করছে। হামলার সঙ্গে সরাসরি পাকিস্তানের যোগ না থাকলে ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলাও কঠিন হবে বলে তিনি দাবি করেন।
গোয়েন্দা সূত্র আরও জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক স্তরে নিজেদের ভাবমূর্তি রক্ষা করতেও পাকিস্তান এই ধরনের কৌশল গ্রহণ করতে পারে। কোনও হামলার সূত্র পাকিস্তান পর্যন্ত পৌঁছে গেলে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর পাল্টা পদক্ষেপের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও ইসলামাবাদ চাপের মুখে পড়তে পারে। তাই ‘রেডিও সাইলেন্স’ বজায় রেখে প্রক্সি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কার্যকলাপ চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে সূত্রের দাবি।
–আইএএনএস


















