নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১২ আগস্ট: রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ৫৫২টি শূন্যপদে লোক নিয়োগ করা হবে। আজ মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সচিবালয়ের প্রেস কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে একথা জানান পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী।
সাংবাদিক সম্মেলনে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে পর্যটনমন্ত্রী জানান, টিপিএসসি-র মাধ্যমে ত্রিপুরা ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসে ৩১০টি শূন্যপদে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার, গ্রেড (এ) এবং গ্রেড ফাইভ (বি) পদে নিয়োগ করা হবে। এক্ষেত্রে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার, গ্রেড ফাইভ (এ)-তে সিভিলে ১৬৯টি, ম্যাকানিকেলে ৮টি, ইলেকট্রিকেল ইঞ্জিনিয়ারের জন্য ১৮টি শূন্যপদ রয়েছে। এসব শূন্যপদের জন্য আবেনকারীদের অবশ্যই বি-টেক ডিগ্রী থাকতে হবে। পাশাপাশি, জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার, গ্রেড ফাইভ (বি)-তে সিভিলে ১০৪টি, ম্যাকানিকেলে ৫টি, ইলেকট্রিকেল ইঞ্জিনিয়ারের জন্য ৬টি শূন্যপদ রয়েছে। এসব শূন্যপদের জন্য আবেদনকারীদের অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বিভাগে ডিপ্লোমা থাকতে হবে।
জেআরবিটি-এর মাধ্যমে জলসম্পদ দপ্তরের ১৮৫টি জুনিয়র পাম্প অপারেটর, গ্রুপ-সি শূন্যপদের জন্য লোক নিয়োগ করা হবে। এক্ষেত্রে প্রত্যাশীদের মাধ্যমিক ও আইটিআই পাশ হতে হবে। তাছাড়া, কলেজ অব ভেটেরিনারি সায়েন্স এন্ড অ্যানিমেল হাজবেন্ডারির ৫৭টি ফ্যাকাল্টি শূন্যপদে সরাসরি নিয়োগ করা হবে। এক্ষেত্রে ১৭টি প্রফেসর, ২০টি করে অ্যাসোসিয়েট ও অ্যাসিসটেন্ট প্রফেসর পদে টিপিএসসি-এর মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে পর্যটনমন্ত্রী আরও বলেন, এখন থেকে রাজ্যে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে পিআরটিসি আর বাধ্যতামূলক নয়। এর পরিবর্তে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের জন্য প্রত্যাশীদের অবশ্যই রাজ্যের যেকোনও বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে দাদ্বশ শ্রেণি পর্যন্ত যেকোনও সময়ে ৫ বছরের একনাগাড়ে পড়াশুনা করার প্রমাণপত্র থাকতে হবে। রাজ্যে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে পিআরটিসি বাধ্যতামূলক থাকার বিষয়টি নিয়ে দিল্লী নিবাসী জনৈক ব্যক্তি ত্রিপুরা উচ্চ আদালতে আবেদন করার পর পিআরটিসি বিষয়ে আদালতের পুনর্বিবেচনার নির্দেশ অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত আজকের মন্ত্রিসভায় গৃহীত হয় বলে জানান পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। তিনি আরও জানান, কমনওয়েলথ গেমসে স্বর্ণপদক জয়ী অস্মিতা দে-কে রাজ্য সরকারে পক্ষ থেকে আগরতলা শহরে ২.৫ গন্ডা জায়গা অ্যালটমেন্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অ্যালটমেন্ট প্রিমিয়াম হিসাবে ৩৩ লক্ষ ৫০ হাজার ২৩৯ টাকাও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মিটিয়ে দেওয়া হবে। তাছাড়া, বক্সনগর, মনুবনকুল, গর্জি ও গঙ্গানগরে নতুন ফায়ার স্টেশন স্থাপন করা হবে বলে আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, জিএ (পলিটিক্যাল) দপ্তরের পক্ষ থেকে রাজ্যের এক্স সার্ভিসম্যানদের পরিবারের জন্য বিভিন্ন গ্র্যান্ট প্রদান করা হয়ে থাকে। এই সকল গ্র্যান্টের অর্থরাশিও বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভায় নেওয়া হয়েছে।



















