নয়াদিল্লি, ৯ আগস্ট (আইএএনএস): মহিলা সংরক্ষণ নিয়ে কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা বলা’ এবং দেশকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ তুললেন কংগ্রেস সাংসদ প্রমোদ তিওয়ারি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে তাঁর দল সম্পূর্ণ সমর্থন করবে। তবে এর সঙ্গে সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশনকে যুক্ত করার যে কোনও প্রচেষ্টার বিরোধিতা করবে কংগ্রেস।
আইএএনএস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিওয়ারি বলেন, ইউপিএ সরকারের আমলেই কংগ্রেস মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিলকে সমর্থন করেছিল। ২০২৩ সালে বর্তমান সরকার বিলটি সংসদে পেশ করার সময়ও কংগ্রেস তার পাশে ছিল।
তিওয়ারি বলেন, “কিরেন রিজিজু মিথ্যা বলছেন, মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন, ভুল তথ্য দিচ্ছেন এবং দেশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। ইউপিএ-১ এবং ইউপিএ-২ সরকারের সময় আমরা মহিলা সংরক্ষণ বিল এনেছিলাম। ২০২৩ সালে এই সরকার যখন বিলটি পেশ করেছিল, তখনও আমরা তাকে সমর্থন করেছিলাম।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, মহিলা সংরক্ষণ এবং ডিলিমিটেশন সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। কোনও শর্ত ছাড়াই মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর করার দাবি জানান তিনি।
কংগ্রেস নেতা বলেন, “মহিলা সংরক্ষণ এবং ডিলিমিটেশন দুটি পৃথক বিষয়। মহিলা সংরক্ষণ নিয়ে আসুন, তা কার্যকর করুন। ২০২৯ সালে আমরা সম্পূর্ণ সমর্থন করব।”
মহিলা সংরক্ষণকে ডিলিমিটেশনের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা হচ্ছে বলেও সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন তিওয়ারি। তাঁর দাবি, অসম ও পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন কোনও পদক্ষেপের বিরোধিতা করবে কংগ্রেস।
তিনি বলেন, “কিন্তু যদি তাঁরা মহিলা সংরক্ষণকে ডিলিমিটেশনের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে চান, তাহলে আমরা তা হতে দেব না।”
মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর করা এবং তার সঙ্গে ডিলিমিটেশনকে যুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে কংগ্রেস ও কেন্দ্রের মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই তিওয়ারির এই মন্তব্য সামনে এল।
শনিবার মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে রিজিজুর মন্তব্যের জবাব দেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও। তিনি বলেন, ২০২৩ সালে মহিলা সংরক্ষণ বিল সর্বসম্মতভাবে পাস হয়েছিল এবং কংগ্রেস পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছিল। তাহলে তিন বছর পরেও কেন আইনটি কার্যকর হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এক্স-এ পোস্ট করে রাহুল গান্ধী লেখেন, “সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে রিজিজুর থেকে বিষয়টি আর কে ভালো জানবেন—২০২৩ সালের মহিলা সংরক্ষণ বিল ইতিমধ্যেই সর্বসম্মতভাবে পাস হয়েছে, যেখানে কংগ্রেস পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছিল।”
তিনি আরও বলেন, “প্রশ্ন হল, তিন বছর পরেও কেন এটি কার্যকর করা হয়নি এবং এখন কেন অপ্রয়োজনীয়ভাবে এটিকে ডিলিমিটেশনের সঙ্গে যুক্ত করতে চাইছেন? ২০২৩ সালের আইন কার্যকর করুন। কোনও শর্ত ছাড়াই।”
এর জবাবে রিজিজু বলেন, সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বিলকে সমর্থন করতে কংগ্রেসের এখন আর কোনও অসুবিধা থাকা উচিত নয়।
শুক্রবার ইনস্টাগ্রামে রাহুল গান্ধীর করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই এই রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত। বৃহস্পতিবার তাঁর ‘আস্ক মি এনিথিং’ পর্বে ভারতীয় সমাজে মহিলাদের আরও স্বাধীনতা ও পরিসর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন তিনি।
রাহুল গান্ধী বলেন, মহিলারা স্বাধীনভাবে নিজেদের মত প্রকাশ করতে না পারলে কোনও দেশ প্রকৃত উন্নতি করতে বা তার সম্ভাবনা পূরণ করতে পারে না। জনজীবনে মহিলাদের কণ্ঠস্বরকে আরও জোরালো করা এবং তাঁরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী এগিয়ে যেতে পারেন এমন পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার উপরও জোর দেন তিনি।



















