লখনউ, ৯ আগস্ট (আইএএনএস): দেশের যুবসমাজ প্রতিভা ও উদ্যমে ভরপুর এবং ভারতের সামনে আসা যে কোনও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তারা সক্ষম। তবে তাদের সম্ভাবনা ও শক্তিকে দেশ গঠনের কাজে কাজে লাগানোর জন্য উপযুক্ত মঞ্চ তৈরি করা প্রয়োজন বলে রবিবার মন্তব্য করলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।
লখনউয়ে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযানের আওতায় ‘তিরঙ্গা যাত্রা উইথ ইয়ুথ’-এর সূচনায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। কাকোরি ট্রেন অ্যাকশনের ১০১তম বার্ষিকী উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এদিন স্বাধীনতার জন্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করা বিপ্লবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তরুণ প্রজন্মকে তাঁদের অবদান থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়ার আহ্বান জানান।
যোগী আদিত্যনাথ বলেন, “আমাদের দেশের যুবসমাজ প্রতিভাবান এবং উদ্যমের প্রতীক। দেশের সামনে আসা যে কোনও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ক্ষমতা তাদের রয়েছে। এই যুবশক্তিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সঠিক মঞ্চ দেওয়া প্রয়োজন।”
তিনি বলেন, তরুণদের শুধু প্রচলিত শিক্ষাক্রমের মধ্যেই নিজেদের প্রস্তুত করলে চলবে না। দেশের ও সমাজের সামনে থাকা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে তাদের সচেতন করতে হবে এবং সেই সমস্যাগুলির সমাধানে ভূমিকা নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই ভাবনা থেকেই বিজেপির উদ্যোগে সারা দেশে তিরঙ্গা যাত্রার আয়োজন করা হচ্ছে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য ও ব্রজেশ পাঠক, উত্তরপ্রদেশ বিজেপির সভাপতি পঙ্কজ চৌধুরী এবং দলের একাধিক প্রবীণ নেতা, পদাধিকারী ও কর্মী।
কাকোরি ট্রেন অ্যাকশনের ১০১তম বার্ষিকীর প্রসঙ্গ তুলে যোগী বলেন, এই উপলক্ষে সারা দেশে তিরঙ্গা যাত্রার আয়োজন করা হচ্ছে। ভারতের স্বাধীনতার জন্য সর্বস্ব ত্যাগ করা সমস্ত বীরের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ, ড. বি. আর. আম্বেদকর এবং সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের অবদানের কথাও স্মরণ করেন।
তিরঙ্গার গুরুত্ব তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তেরঙা শুধু একটি জাতীয় পতাকা নয়, এটি ভারতের সরলতা, উন্নয়ন, ঐতিহ্য ও সম্মানের প্রতীক। তাঁর কথায়, “তিরঙ্গা শুধু জাতীয় পতাকা নয়; এটি দেশের সরলতা, উন্নয়ন, সম্মান ও গৌরবের প্রতীক। এটি ভারতের জাতীয় চেতনা ও গৌরবকে প্রতিফলিত করে।”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতের ঐতিহ্য ও জাতীয় প্রতীকগুলির প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন যোগী। দেশের ঐতিহ্য ও মহান ব্যক্তিত্বদের অপমানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
যোগী বলেন, “ভারতে বসবাস করে দেশের ঐতিহ্য ও মহান ব্যক্তিত্বদের অপমান করার প্রবণতা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
তিনি আরও বলেন, তিরঙ্গা দেশের নাগরিকদের মধ্যে দেশপ্রেম, ঐক্য ও জাতীয় গৌরবের চেতনাকে আরও শক্তিশালী করে। স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস এবং দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করা ব্যক্তিদের অবদান সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মকে পরিচিত করানোও এই অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য বলে জানান তিনি।
জাতীয় সংগীত ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষেও এবছরটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই মাইলফলক উদযাপনে সারা দেশে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
যোগী বলেন, “জাতীয় সংগীত ও জাতীয় সঙ্গীত—দুটিই দেশের জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। প্রত্যেক নাগরিকের উচিত এগুলির প্রতি শ্রদ্ধার চেতনাকে আরও শক্তিশালী করা।”
উত্তরপ্রদেশ বিজেপির সভাপতি পঙ্কজ চৌধুরী বলেন, আকাশে তিরঙ্গা উড়তে দেখলে প্রত্যেক ভারতীয় গর্ব অনুভব করেন। দেশের সীমান্ত রক্ষায় নিয়োজিত জওয়ানদের আত্মত্যাগের কথাও স্মরণ করেন তিনি।
চৌধুরী বলেন, “এই সেই তিরঙ্গা, যার সুরক্ষার জন্য দেশের সীমান্তে মোতায়েন জওয়ানরা সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করতেও পিছপা হন না।”
বিশ্বের বিভিন্ন ক্রীড়াঙ্গনে ভারতীয় পতাকা উড়তে দেখলে দেশের ক্রীড়াবিদদের আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব লক্ষ্য অর্জনের ক্ষমতা তাঁরা পান বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, “তিরঙ্গা ১৪০ কোটি ভারতীয়ের স্পন্দিত হৃদয়ের শক্তি এবং ভারতের ঐক্যের প্রতীক।”
অনুষ্ঠান শেষে তরুণ ও দলীয় কর্মীদের ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযানকে সমাজের প্রতিটি স্তরে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রতিটি বাড়িতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনে নাগরিকদের উৎসাহিত করার আবেদনও জানানো হয়।
—আইএএনএস



















