প্রতাপগড়, ৬ আগস্ট (আইএএনএস): উত্তরপ্রদেশের প্রতাপগড় জেলায় প্রবল বৃষ্টির মধ্যে প্রায় ১০০ বছরের পুরনো একটি বাড়ি ধসে একই পরিবারের ছয় সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আহতের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।
সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, প্রতাপগড়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় তিনি গভীরভাবে শোকাহত। তিনি প্রয়াতদের আত্মার শান্তি কামনা করার পাশাপাশি আহত ব্যক্তির দ্রুত সুস্থতা প্রার্থনা করেছেন।
ঘটনার পর জেলা শাসক অভিষেক পাণ্ডে এবং পুলিশ সুপার দীপক ভূকার দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাঁরা ধ্বংসস্তূপ ঘুরে দেখার পাশাপাশি একমাত্র জীবিত উদ্ধার হওয়া আমন শ্রীবাস্তবের সঙ্গেও দেখা করেন।
জেলা শাসক অভিষেক পাণ্ডে জানান, বাড়িটি প্রমোদ শ্রীবাস্তবের। দ্বিতীয় তলার একটি ঘরের ছাদ পুরনো নির্মাণপদ্ধতিতে তৈরি ছিল। প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, সেই পুরনো কাঠামোর ছাদই ভেঙে পড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার সময় পরিবারের সাত সদস্যই একই ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন, কারণ ওই ঘরেই শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) লাগানো ছিল। সাতজনের মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে, একমাত্র আমন শ্রীবাস্তব বেঁচে গিয়েছেন এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারকে সব ধরনের সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ দ্রুত দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
জেলা শাসক জানান, আমনের সঙ্গে কথা বলে তাঁকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, প্রাপ্য সরকারি অনুদান ও ত্রাণের সমস্ত ব্যবস্থা ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সম্পন্ন করা হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে প্রতাপগড়ের কোটওয়ালি থানার অন্তর্গত মহুলি এলাকায় প্রবল বৃষ্টির মধ্যে শতবর্ষী বাড়িটি আচমকাই ভেঙে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন পরিবারের সাত সদস্য। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালিয়ে সবাইকে বের করে আনে। তবে ছয়জনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং গুরুতর আহত অবস্থায় আমন শ্রীবাস্তবকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে শুয়ে আমন শ্রীবাস্তব আইএএনএস-কে জানান, ঘুম ভেঙে তিনি বুঝতে পারেন যে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন। কোনওরকমে বেরিয়ে এসে দেখেন তাঁর পরিবারের বাকি সদস্যরা আটকে রয়েছেন। প্রথমে নিজেই তাঁদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন, কিন্তু ব্যর্থ হয়ে সাহায্যের জন্য চিৎকার শুরু করেন। প্রতিবেশী ও আত্মীয়রা ছুটে এলেও তাঁর বাবা-মা, ছোট ভাই, স্ত্রী এবং দুই সন্তানকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।



















