নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৩ আগস্ট:
জাতীয় অঙ্গদান দিবস উপলক্ষ্যে আজ আগরতলার প্রজ্ঞাভবনে এক সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে। স্টেট অর্গান এন্ড টিস্যু ট্রান্সপ্লান্ট অর্গানাইজেশন এর উদ্যোগে প্রজ্ঞাবনের ১নং হলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের থিম বা মূল ভাবনা ছিল ‘অঙ্গদান জীবন সঞ্জীবনী অভিযান’। মরনোত্তর অঙ্গদানে রাজ্যবাসীর মধ্যে আরও সচেতনতা গড়ে তুলতে এবং অঙ্গদানে এগিয়ে আসতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে বলেন, জিবিপি হাসপাতালে ইতিমধ্যেই ৯ জনের দেহে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। রাজ্যের উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে রাজ্য যে অনেকটা এগিয়ে গেছে এই সাফল্য তার অন্যতম উদাহরণ। ২০২৪ সালে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা রাজ্যেই অঙ্গ প্রতিস্থাপনে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর পরই রাজ্যে অঙ্গ ও টিস্যু প্রতিস্থাপন সংস্থা গড়ে তোলা হয়। স্বাস্থ্যসচিব বলেন, রাজ্যের ক্যান্সার হাসপাতালে বোন মেরু ট্রান্সপ্লান্ট এর কাজ শুরু হয়েছে। খুব শীঘ্রই জিবিপি হাসপাতালে চক্ষু ব্যাঙ্ক স্থাপন করা হবে। অঙ্গ প্রতিস্থাপনের বিষয়ে পারদর্শিতা অর্জনের জন্য ইতিমধ্যে রাজ্য থেকে কয়েকজন চিকিৎসককে প্রশিক্ষণের জন্য বর্হিরাজ্যে পাঠানো হবে। অঙ্গদানের মতো মহৎকাজে এগিয়ে আসতে তিনি রাজ্যবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। অঙ্গদাতা পরিবার, অঙ্গ গ্রহীতা এবং তাদের পরিবারকে সম্মাননা জানানো হয়। স্বাস্থ্যসচিব এবং অন্যান্য অতিথিগণ তাদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে এজিএমসি’র প্রিন্সিপাল ডা. তপন মজুমদার বলেন, একজন অঙ্গদাতা তার মৃত্যুর পর অঙ্গদান করে ৮ জন মানুষের জীবন রক্ষা করতে পারেন। অঙ্গদানের কোন বয়স নেই। অঙ্গদানে আরও বেশি করে এগিয়ে আসার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি প্রণব সরকার। তিনি রাজ্যের চিকিৎসা পরিকাঠামো উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জিবি হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট ডা. বিধান গোস্বামী। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের অধিকর্তা সাজুবাহিদ এ, স্বাস্থ্য দপ্তরের অধিকর্তা ডা. দেবাশ্রী দেববর্মা, যুগ্ম অধিকর্তা ডা. অলক দেওয়ান প্রমুখ।


















