নয়াদিল্লি, ২৫ জুলাই (আইএএনএস): কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান শনিবার তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। পদত্যাগপত্রে তিনি জানিয়েছেন, গত ১০ দিনের ঘটনাপ্রবাহ তাঁকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে এবং পরীক্ষা-সংক্রান্ত বিতর্ককে কেন্দ্র করে দেশের পরিস্থিতির সুযোগ যাতে কোনও দেশবিরোধী শক্তি নিতে না পারে, সেই লক্ষ্যেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ করে লেখা পদত্যাগপত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধান জানান, দেশের যুবসমাজ, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং পরীক্ষার স্বচ্ছতা রক্ষার প্রতি তাঁর অঙ্গীকার অটুট থাকবে। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর ওপর আস্থা রাখার জন্য কৃতজ্ঞতাও জানান তিনি।
সম্প্রতি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে বিক্ষোভের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জোরদার হয়। সেই প্রেক্ষাপটেই নিজের নৈতিক দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে পদত্যাগ করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।
পদত্যাগপত্রে তিনি লেখেন, গত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক এবং শিক্ষা সংস্কারের জন্য কাজ করেছি। আমি বিশ্বাস করি, একটি শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং দূরদর্শী শিক্ষা ব্যবস্থা একটি শক্তিশালী জাতির ভিত্তি।
তিনি বলেন, দেশের যুবসমাজের স্বপ্ন ও প্রত্যাশার প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে এবং সেই স্বপ্ন পূরণ করাকে তিনি রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে দেখেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশসেবার সুযোগ পাওয়ায় তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ধর্মেন্দ্র প্রধান জানান, নিট-ইউজি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পরই কেন্দ্র সরকার দ্রুত তদন্তভার সিবিআই-এর হাতে তুলে দেয়, পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি আগামী বছর থেকে এই পরীক্ষা সম্পূর্ণ কম্পিউটার-ভিত্তিক (সিবিটি) পদ্ধতিতে নেওয়ার সিদ্ধান্তও ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ২০ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থীর স্বার্থে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার, বিশেষ করে জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে ‘হোল-অব-গভর্নমেন্ট’ পদ্ধতিতে পুনঃপরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়। ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের সহযোগিতায় ২১ জুন, ২০২৬-এ পরীক্ষা নির্বিঘ্নে শেষ হয়।
ধর্মেন্দ্র প্রধান আরও বলেন, প্রথম দিন থেকেই আমি এই ঘটনার দায়িত্ব নিয়েছি। কোনও মেধাবী ছাত্রের ভবিষ্যৎ যাতে পরীক্ষা মাফিয়াদের কারণে নষ্ট না হয় এবং কোনও ছাত্র যাতে অন্যায়ের শিকার না হয়, সে বিষয়ে আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলাম।
তিনি অভিযোগ করেন, পুনঃপরীক্ষার ফল প্রকাশের সময় দায়িত্বশীল পদে থাকা কিছু ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেছেন, যা তাঁকে অত্যন্ত ব্যথিত করেছে।
পদত্যাগপত্রে তিনি লেখেন, গত ১০ দিনের ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত। এটি আমার ব্যক্তিগত মর্যাদার বিষয় নয়। দেশের ঐক্য অটুট রাখা, কোনও ভারতীয় ছাত্রের ভবিষ্যৎ যাতে আইনি জটিলতায় না জড়ায় এবং ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে পারে, সেই উদ্দেশ্যেই আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।
শেষে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, দেশসেবাই তাঁর জীবনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ভগবান জগন্নাথের আশীর্বাদে ভবিষ্যতেও ওড়িশার মানুষ, দেশের যুবসমাজ এবং মাতৃভূমির সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করে যাবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।



















