নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৩ জুলাই: আধুনিক শহর ও আধুনিক গ্রাম গড়ার মধ্য দিয়েই গড়ে তোলা হবে এক উন্নত ত্রিপুরা। রাজ্যবাসীর কাছে আরও দ্রুত সরকারি নানা পরিষেবা পৌঁছে দিতে ডিজিট্যাল ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হবে। আজ আগরতলার স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে আগরতলা পুর নিগমের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন। তিনি বলেন, আগরতলা পুরনিগমের পাশাপাশি রাজ্যের সমস্ত পুর এলাকাগুলিতে গড়ে তোলা হবে ডিজিট্যাল পরিষেবা। রাজ্যের মানুষের কল্যাণে কাজ করাই রাজ্য সরকারের প্রধান লক্ষ্য। কাজের জন্য চাই সদিচ্ছা। বর্তমান সরকারের এই সদিচ্ছা আছে বলেই আগরতলা শহর সহ রাজ্যের প্রতিটি স্থানেই নতুন নতুন উন্নয়নমূলক প্রকল্প রূপায়িত হচ্ছে। আগরতলা স্মার্ট সিটি মিশনে প্রতিটি উন্নয়নমূলক প্রকল্প সহ রাজ্যের অন্যান্য উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজগুলি স্বচ্ছতার সঙ্গে সঠিক সময়ে রূপায়িত করতে সরকারি কর্মচারি, আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিদের সম্মিলিতভাবে কাজ করে যেতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সব সময়েই কাজে বিশ্বাসী। রাজ্য সরকারও কাজের মধ্য দিয়ে সেই দিশায় চলতে চায়। সুন্দরভাবে বাঁচার জন্য দরকার সহজলভ্য জীবনযাপন। সেই জন্যই মানুষের জীবনকে উন্নত ও সহজলভ্য করে তুলতে সরকার আরও বেশি করে নানা উন্নয়নমূলক কাজ রূপায়িত করে এগিয়ে যেতে চায়। আত্মতৃপ্তিতে না ভোগে উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলিকে সুন্দর ও স্বচ্ছভাবে রূপায়িত করার লক্ষ্য নিয়ে সবাই মিলে চেষ্টা করে যেতে হবে। জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচিত করে জনসাধারণ জনসেবামূলক কাজ করার দায়িত্ব দিয়েছে। মানুষের কল্যাণে কাজ করে আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে আগরতলা শহর একটি সম্ভাবনাময় আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে উঠছে। রাজ্য সরকার আগরতলা শহরকে অত্যাধুনিক শহর হিসাবে গড়ে তোলার পাশাপাশি তার সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যকে রক্ষা করার কাজও করে চলেছে।
কাজের সাফল্যের উপলব্ধি তখনই আসে যখন দৈনন্দিন জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য পেয়ে সাধারণ নাগরিক নিজের মুখে কাজের প্রশংসা করে। ইতিমধ্যে আগরতলা পুর নিগম এলাকায় স্মার্ট সিটি মিশন প্রকল্পে ৫৮১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৫টি উন্নয়নমূলক প্রকল্প রূপায়ণ করা হয়েছে। আগরতলা শহর এলাকাকে জমা জল মুক্ত রাখতে অত্যাধুনিক জল নিকাশির ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে এবং ১৩৭ কোটির বেশি টাকা ব্যয়ে ২৪টি পুকুরের সংস্কার ও সৌন্দ্যর্যায়ন করা হয়েছে।
পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি আগরতলা পুরনিগম এলাকা সহ অন্যান্য পুর এলাকার গরিব মানুষদের জন্য প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় মোট ৭৯ হাজার ৮৭৮টি পাকা ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। এতে ব্যয় হবে মোট ১ হাজার ২৯২ কোটি টাকারও বেশি। একই প্রকল্পে দেওয়া হবে আরও ৪ হাজার ৩০০টি পাকা ঘর। আগরতলা লাইট হাউস প্রকল্পে আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলির জন্য সরকারিভাবে ফ্ল্যাট নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। আগরতলা শহরের পরিবেশকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও সম্পূর্ণভাবে নেশামুক্ত রাখতে মুখ্যমন্ত্রী প্রতিটি ক্লাব, সামাজিক সংস্থা সহ সবাইকে সচেতন হয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের সভাপতি আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার বলেন, পুর প্রশাসন মানুষের প্রত্যাশা মতোই উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছে। আগরতলা শহরকে জমা জল মুক্ত, মশা মুক্ত রাখতে নানা ব্যবস্থা করা হয়েছে। গত কয়েক বছরে আগরতলা পুর নিগম এলাকায় সুষ্ঠু পানীয়জল পরিষেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে যা অতীতে ছিল না।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী সবুজ সেনা, চান্দিনীমুড়া বর্জ্য পদার্থ স্থানান্তরকরণ কেন্দ্র, আমার আগরতলা অ্যাপ ও ৫১টি মিনি ভেহিক্যাল প্রকল্পের বোতাম টিপে উদ্বোধন করেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে পুর নিগম কর্মীদের হাতে মশা মারার অত্যাধুনিক স্মোক কামান তুলে দেন। মুখ্যমন্ত্রী সবুজ পতাকা নেড়ে আগরতলা পুর নিগম এলাকায় বর্জ্য পদার্থ বহনের জন্য নতুন ৫১টি ভ্যান গাড়ির যাত্রার সূচনা করেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন আগরতলা পুর নিগমের ডেপুটি মেয়র মণিকা দাস দত্ত। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নগর উন্নয়ন দপ্তরের অধিকর্তা তমাল মজুমদার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আগরতলা পুর নিগমের কমিশনার সাজু বাহিদ এ.।


















