নিজস্ব প্রতিনিধি, সোনামুড়া , ১৭ জুলাই: সিপাহিজলা জেলার সোনামুড়া মহকুমার দুর্গাপুর এলাকায় এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত যুবকের নাম রিপন মিয়া (২৩)। পরিবারের অভিযোগ, রিপনকে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় মৃতের স্ত্রী পায়েল আক্তার, নানী শাশুড়ি এবং মামা শ্বশুর সত্তার মিয়ার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন পরিবারের সদস্যরা। তবে এই অভিযোগের সত্যতা এখনও পর্যন্ত পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বিশ্রামগঞ্জের প্রমোদনগর এলাকার বাসিন্দা রিপন মিয়ার সঙ্গে প্রায় তিন বছর আগে সোনামুড়ার দুর্গাপুর এলাকার এক তরুণীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তিনি স্ত্রীর বাড়িতেই বসবাস করতেন। পরিবারের দাবি, বিভিন্ন সময়ে রিপনের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো।
অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাতে মাত্র ৫০ টাকা নিয়ে বিবাদের জেরে রিপনকে তাঁর স্ত্রী, মামা শ্বশুর এবং নানী শাশুড়ি মিলে মারধর করেন। স্থানীয়দের দাবি, প্রথম দফায় প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করলেও পরে আবারও রিপনের ওপর হামলা চালানো হয়। পরিবারের অভিযোগ, মোট তিন দফায় তাঁকে মারধর করা হয়। মৃতের পরিবারের আরও দাবি, মারধরের একপর্যায়ে রিপন তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে শেষবারের মতো ফোনে কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু অভিযুক্তরা সেই সুযোগও দেননি।
পরবর্তীতে রিপনকে সোনামুড়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করেন অভিযুক্তরা। তবে মৃতের বাবা-মায়ের অভিযোগ, এলাকাবাসীর কাছ থেকে তারা জানতে পারেন যে রিপনকে মারধর করা হয়েছিল এবং হাসপাতালেই তাঁর মৃতদেহ ফেলে রেখে শ্বশুরবাড়ির লোকজন চলে যান।
ময়নাতদন্তের পর মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে প্রমোদনগরের নিজ বাড়িতে দেহ নিয়ে আসা হলে শোকের ছায়া নেমে আসে পরিবারে। কান্নায় ভেঙে পড়েন রিপনের বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজন।
মৃতের পরিবারের অভিযোগ, রিপনকে প্রথমে মারধর করে হত্যা করা হয় এবং পরে ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে দেখানোর জন্য ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহার হস্তক্ষেপও চেয়েছেন অসহায় বাবা-মা।



















