আগরতলা, ১৬ জুলাই: রথযাত্রা শুধুমাত্র একটা ধর্মীয় উৎসব নয়, এই উৎসব মানবতা, ভ্রাতৃত্ববোধ, ভালোবাসা ও ঐক্যের এক অনন্য প্রতীক। রাজ্য সকল সম্প্রদায়ের মানুষের উৎসবে সহায়তা অব্যাহত রাখবে সরকার। আজ পূর্বাশা প্রাঙ্গনে ইসকন আয়োজিত রথযাত্রা উৎসবে রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লুর উপস্থিতিতে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, রথযাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি মানবতা, ভ্রাতৃত্ববোধ, ভালোবাসা ও ঐক্যের এক অনন্য প্রতীক। এই উৎসব আমাদের জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে এক সাথে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার কথা শেখায়। তিনি বলেন, রাজ্যের বর্তমান সরকার সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের উৎসবকে সম্মান ও সমান গুরুত্ব দিয়ে সহযোগিতা করে যাচ্ছে এবং আগামী দিনেও করে যাবে। কারণ এই উৎসবগুলি সমাজে শান্তি সম্প্রীতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সাংস্কৃতিক বৈচিত্রের মধ্যেও ঐক্য সৃষ্টি, পারস্পারিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের বন্ধনকে সুদৃঢ় করে থাকে। তিনি ভগবান শ্রী জগন্নাথের কাছে ত্রিপুরা রাজ্য সহ সমগ্র দেশ তথা মানব জাতির উন্নতি, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
এদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে রাজ্যপাল প্রভু জগন্নাথদেবের কাছে ত্রিপুরাবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বলেন, প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী সকলের পক্ষে মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশ করে ভগবানের দর্শন করা সম্ভব হয় না। তাই প্রভু জগন্নাথদেব নিজেই রথে আরোহণ করে ভক্তদের মাঝে উপস্থিত হন, যাতে সমাজের প্রতিটি মানুষ ধনী-দরিদ্র, জাত-পাত নির্বিশেষে তাঁর দর্শনের সুযোগ লাভ করতে পারেন। তিনি আরও বলেন, এই ঐতিহ্য আমাদের শিক্ষা দেয় যে ঈশ্বরের কাছে সকল মানুষ সমান এবং মানবিক মূল্যবোধ ও সম্প্রীতিই সমাজের প্রকৃত শক্তি।
রাজ্যপাল আরো বলেন, রথযাত্রার সময় সকলের মনোযোগ ও ভক্তি প্রভু জগন্নাথদেবের প্রতি নিবদ্ধ থাকে, যা এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি করে। রথযাত্রা সামাজিক ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও সুদৃঢ় করে। বর্তমান সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ভারতীয় সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা এই সংস্কৃতির সার্বজনীন আবেদন ও মানবকল্যাণমূলক দর্শনেরই প্রতিফলন।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, আগরতলা পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, বিধায়ক অভিষেক দেবরায়, পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল, বিশিষ্ট সমাজসেবী পাপিয়া দত্ত, টিআইডিসি’র চেয়ারম্যান নবাদল বণিক। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আগরতলা এসকনের সহ-সভাপতি শ্রীধাম গোবিন্দ দাস প্রভু।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপাল সহ অন্যান্য অতিথিগণ রথে থাকা জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার পূজার্চনা করে রথযাত্রার সূচনা করেন।



















