আগরতলা, ২ জুলাই: প্রযুক্তিতে অনভিজ্ঞ প্রবীণ নাগরিকদের আদালতের ওয়েবসাইটে মামলা অনুসরণ না করার কারণে শাস্তি দেওয়া বা তাদের ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করা যায় না বলে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছে ত্রিপুরা হাইকোর্ট। একই সঙ্গে প্রায় ২৩ মাস বিলম্বে দায়ের হওয়া একটি সম্পত্তি সংক্রান্ত আপিল পুনরায় গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
প্রধান বিচারপতি এম এস রামচন্দ্র রাওয়ের একক বেঞ্চ গোমতী জেলার জেলা বিচারকের নির্দেশ বাতিল করে টাইটেল আপিল নং ১৯/২০২৫ পুনর্বহাল করেন। আদালত জানায়, মামলার বিলম্ব মাফের আবেদন খারিজ করে আপিল বাতিল করা নিম্ন আদালতের গুরুতর ভুল ছিল।
মামলার সূত্রপাত ২০২১ সালে উদয়পুরে একটি অস্থাবর সম্পত্তির মালিকানা ও দখল নিয়ে দায়ের হওয়া দেওয়ানি মামলা থেকে। বিবাদীপক্ষ লিখিত জবাব দাখিল করলেও, তাদের আইনজীবী আদালতের অনুমতি নিয়ে মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর পর তারা বিষয়টি জানতে পারেননি। ফলে তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং ২০২৩ সালের আগস্টে বাদীপক্ষের পক্ষে একতরফা রায় ঘোষণা করা হয়।
পরবর্তীতে বিবাদীপক্ষ জানায়, আইনজীবী মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি তাদের জানানো হয়নি। রায় কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পরই তারা একতরফা ডিক্রির কথা জানতে পারেন। আবেদনকারীদের একজনের বয়স ৭৭ বছর এবং তিনি মাঝে মাঝে মানসিক অসুস্থতায় ভুগতেন বলেও আদালতে উল্লেখ করা হয়। অপর আবেদনকারীও একজন প্রবীণ নাগরিক।
জেলা আদালত তাদের আবেদন খারিজ করে জানিয়েছিল, মামলাকারীদের নিজ দায়িত্বে নতুন আইনজীবী নিয়োগ করা এবং আদালতের ওয়েবসাইটে মামলার অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা উচিত ছিল।
তবে এই যুক্তির সঙ্গে একমত হয়নি হাইকোর্ট। আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, প্রযুক্তিতে অনভিজ্ঞ প্রবীণ নাগরিকদের কাছ থেকে অনলাইনে মামলার অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের প্রত্যাশা করা বাস্তবসম্মত নয়। আদালত আরও উল্লেখ করে, আইনজীবী তাদের না জানিয়ে মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোয় তারা পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন।
হাইকোর্ট আরও বলে, নিম্ন আদালত একতরফা ডিক্রি বাতিলের জন্য বিবাদীপক্ষ যে আন্তরিকভাবে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছিল, তা যথাযথভাবে বিবেচনা করেনি। এছাড়া, মৃত আবেদনকারীর আইনগত উত্তরাধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য লিমিটেশন অ্যাক্টের ৫ ধারায় পৃথক আবেদন বাধ্যতামূলক বলে জেলা আদালতের মন্তব্যেরও সমালোচনা করে হাইকোর্ট জানায়, আইনে এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই।
রায়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, “বিবাদীরা পরিস্থিতির শিকার। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্ব করেননি কিংবা অবহেলা প্রদর্শন করেননি। এ অবস্থায় মামলার প্রকৃত মেরিটে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপনের একটি সুযোগ থেকেও তাদের বঞ্চিত করা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী হবে।”
হাইকোর্ট আপিলটি পুনর্বহাল করার পাশাপাশি মৃত আবেদনকারীর আইনগত উত্তরাধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে মূল ডিক্রির ভিত্তিতে চলমান কার্যকরী প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ জারি করে গোমতী জেলার জেলা বিচারককে আগামী চার মাসের মধ্যে মামলাটি মেরিটের ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দিয়েছে।























