জম্মু, ২ জুলাই (আইএএনএস): অগাধ ভক্তি, উৎসাহ এবং ‘বাবা বরফানি’র দর্শনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বৃহস্পতিবার জম্মুর ভগবতী নগর বেস ক্যাম্প থেকে বার্ষিক অমরনাথ যাত্রার প্রথম দল রওনা দিল। যাত্রা শুরুর আগে বহু তীর্থযাত্রী ও সাধুসন্ত প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁদের দাবি, নিরাপত্তা নিয়ে কোনও ভয় বা উদ্বেগ নেই।
যাত্রার আগে আইএএনএস-কে এক তীর্থযাত্রী বলেন, “আবহাওয়া খুবই মনোরম। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও অত্যন্ত ভালো। আমার এটি দ্বিতীয় অমরনাথ যাত্রা, তাই কোনও ভয় নেই।”
অন্য এক ভক্ত বলেন, “আমি খুবই উৎসাহিত। বাবা অমরনাথের দর্শনের অপেক্ষায় রয়েছি। নিজেকে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান মনে হচ্ছে। পূর্ণ ভক্তিভরে প্রার্থনা করব।”
আরও এক তীর্থযাত্রী বলেন, “সারা বছর আমরা এই দিনের অপেক্ষায় থাকি। প্রথম দিনের দর্শনের আলাদা মাহাত্ম্য রয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ভগবতী নগর বেস ক্যাম্প থেকে পবিত্র গুহামন্দিরের উদ্দেশে রওনা দেব। ভক্তদের মধ্যে কোনও ভয় বা উদ্বেগ নেই।”
এক সাধু বলেন, “আমরা অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত। এটি আমাদের কৈলাস যাত্রার প্রথম পর্ব। বহু প্রাচীনকাল থেকে এই ঐতিহ্য চলে আসছে। নিরাপত্তা ও তীর্থযাত্রীদের জন্য করা সমস্ত ব্যবস্থাই অত্যন্ত ভালো।”
প্রথমবার অমরনাথ যাত্রায় অংশ নেওয়া এক ভক্ত বলেন, “এটি আমার প্রথম অমরনাথ যাত্রা। ভক্তদের মধ্যে অসাধারণ উৎসাহ দেখছি। প্রশাসন এবং সেনাবাহিনীর সহযোগিতা প্রশংসনীয়।”
আরেক সাধু বলেন, “এবারই প্রথম বাবা অমরনাথের দর্শনের সুযোগ পাচ্ছি। সহযাত্রী সাধু-সন্ত ও ভক্তদের সঙ্গে এই যাত্রা এক অনন্য অভিজ্ঞতা। প্রতি বছরের মতো এবারও সাধুদের জন্য চমৎকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।”
গত ৩২ বছর ধরে অমরনাথ যাত্রায় অংশ নেওয়া এক সাধু বলেন, “সরকারের ব্যবস্থা অত্যন্ত সন্তোষজনক। বিশেষ করে প্রবীণ ও বিশেষভাবে সক্ষম তীর্থযাত্রীদের জন্য ভালো ব্যবস্থা করা হয়েছে।”
মধ্যপ্রদেশের জবলপুর থেকে আসা আরেক সাধু বলেন, “এটি আমার তৃতীয় অমরনাথ যাত্রা। বাবা বরফানির আশীর্বাদ নিতে এসেছি। সরকারের প্রস্তুতি ও পরিকাঠামো সত্যিই প্রশংসনীয়।”
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে জম্মু-কাশ্মীরের উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহা জম্মুর ভগবতী নগর বেস ক্যাম্প থেকে শ্রী অমরনাথজি যাত্রা-২০২৬-এর প্রথম দলকে সবুজ পতাকা দেখিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রার সূচনা করেন।
এই উপলক্ষে এক্স-এ তিনি লেখেন, “হর হর মহাদেব! বাবা বরফানির পবিত্র ধামের উদ্দেশে যাত্রা শুরু হল। সকল তীর্থযাত্রীর নিরাপদ, আনন্দময় ও আধ্যাত্মিকভাবে পরিপূর্ণ যাত্রা কামনা করি। ভগবান শিব সকলের মঙ্গল করুন।”



















