অযোধ্যা, ১ জুলাই (আইএএনএস) : অযোধ্যার রাম মন্দিরের অনুদান ও তহবিল তছরুপের অভিযোগে চলা তদন্তে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন শ্রী রাম জন্মভূমি সেবা সমিতির সাধারণ সম্পাদক অচ্যুত শঙ্কর শুক্ল।
তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী কেন্দ্র সরকার শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট গঠন করেছিল। তাই এই অভিযোগের তদন্ত যদি কেন্দ্র নিজেই করে, তাহলে বিষয়টি আর শুধুমাত্র রাজ্যের আওতায় সীমাবদ্ধ থাকবে না।
আইএএনএস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শুক্ল বলেন, বর্তমানে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ তদন্ত করছে এবং রাজ্য সরকার তাদের সাধ্য অনুযায়ী কাজ করছে। তবে ট্রাস্ট যেহেতু কেন্দ্র গঠন করেছে, তাই কেন্দ্রের সম্পৃক্ততা থাকলে তা আরও উপযুক্ত হবে।
তিনি আরও বলেন, কেন্দ্র চাইলে এই তদন্ত সিবিআই বা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর হাতে তুলে দিতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ-এর প্রসঙ্গ তুলে শুক্ল বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভগবান রামের অন্যতম বড় ভক্ত। তাই প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত নয়।
তিনি দাবি করেন, ঘটনাটির যথাযথ তদন্ত চলছে।
রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের পরিচালনা আমলাতন্ত্রের হাতে থাকা উচিত কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শুক্ল বলেন, এটি একটি ধর্মীয় বিষয়। ধর্মীয় জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিরাই এই দায়িত্ব পালন করবেন। শাস্ত্রমতে ভগবানের পূজা-অর্চনা করা হিন্দু ধর্মীয় নেতাদের দায়িত্ব, আমলাতন্ত্রের নয়।
তবে তিনি বলেন, অর্থের নিরাপত্তা, ভক্তদের জন্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলি আমলাতন্ত্র দেখভাল করতে পারে।
গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তদের প্রসঙ্গে শুক্ল বলেন, তারা ট্রাস্টের কর্মী ছিলেন এবং তাদের পরিচয়পত্র ছিল। রাম মন্দির চত্বরে কড়া নিরাপত্তার কারণে পরিচয়পত্র ছাড়া প্রবেশের অনুমতি নেই।
তিনি বলেন, তারা কারও নির্দেশে কাজ করছিলেন কি না, তা আমার জানা নেই।
অভিযুক্তদের একজন রাম শঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু যাদব সম্পর্কে শুক্ল জানান, টিন্নুর কাছে ওয়্যারলেস সেট ছিল এবং তিনি ট্রাস্টের প্রতিনিধিত্ব করতেন।
তিনি বলেন, আমাদের সমিতি যখনই কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করত, তখন আমরা ‘কলশ’ নিয়ে ট্রাস্টে যেতাম। পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে টিন্নু যাদব এবং ট্রাস্টের আরও একজন সদস্য আমাদের অভ্যর্থনা জানাতেন।
শুক্লর দাবি, টিন্নু ওয়্যারলেসে তাদের আগমনের খবর জানালে তবেই প্রবেশের অনুমতি মিলত। এমনকি তিনি পুরোহিতদেরও নির্দেশ দিতেন। এসবের ভিডিও ফুটেজও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে অভিযুক্তরা কার নির্দেশে কাজ করতেন, সে বিষয়ে তাঁর কাছে কোনও তথ্য নেই বলেও জানান শুক্ল।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান সফলভাবে পুলিশ ও প্রশাসনের সহযোগিতায় সম্পন্ন হলেও রাম মন্দির ট্রাস্টের কাছ থেকে তাঁদের প্রত্যাশিত সহায়তা মেলেনি।
উল্লেখ্য, রাম মন্দিরের অনুদানের অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগে তদন্তের জন্য বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই মামলায় অবিনাশ শুক্ল, অনুকল্প মিশ্র, লাভ কুশ মিশ্র, মনীশ কুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রামাশঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং রামশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু যাদব-সহ মোট আটজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে রাম মন্দিরের অনুদানের নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী আত্মসাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।



















