কলকাতা, ১৯ জুন (আইএএনএস) : দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার প্রাক্তন প্রভাবশালী পুলিশ আধিকারিক মিতুন কুমার দে-র বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা তিনবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এই প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ডায়মন্ড হারবার পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর ডা. তমাল কুমার হালদারের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতেই এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগে ডা. হালদার দাবি করেছেন, কোনও একটি অভিযোগ দায়ের করতে থানায় গেলে তৎকালীন ডায়মন্ড হারবারের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (এসডিপিও) মিতুন কুমার দে তাঁকে নৃশংসভাবে নির্যাতন করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁকে পোশাক খুলিয়ে মারধর করা হয় এবং বৈদ্যুতিক শক দিয়েও নির্যাতন চালানো হয়। এমনকি ঘটনাটি কভার করতে আসা এক সংবাদমাধ্যম কর্মীকেও মারধর ও হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার এক সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তকারী আধিকারিকরা মিতুন কুমার দে-কে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।
প্রসঙ্গত, ডায়মন্ড হারবারের এসডিপিও পদে থাকার পর মিতুন কুমার দে পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের দায়িত্ব পান। পরে বিধানসভা নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে তাঁকে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়গপুরে রেল পুলিশের সুপার পদে বদলি করা হয়।
এটি প্রথমবার নয়, এর আগেও একাধিকবার বিতর্কে জড়িয়েছে তাঁর নাম। গত মাসে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট (পশ্চিম) কেন্দ্রের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্ত্রিসভার প্রাক্তন সদস্য গিয়াসউদ্দিন মোল্লা স্থানীয় থানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মিতুন কুমার দে-র বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।
মোল্লার অভিযোগ ছিল, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের ধরন মেনে নিতে অনিচ্ছুক তৃণমূলের একাংশ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অযথা দমনমূলক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তৎকালীন এসডিপিও মিতুন কুমার দে। তিনি দাবি করেন, দলীয় কর্মীদের থানার ভিতরে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো এবং তিনি প্রতিবাদ করলেও কোনও ফল হয়নি।
গিয়াসউদ্দিন মোল্লার আরও দাবি, বিষয়টি সম্পর্কে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানানো হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁর অভিযোগ, মিতুন কুমার দে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই এই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতেন।
তবে এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত মিতুন কুমার দে বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তদন্তের অগ্রগতির উপর নজর রাখছে পুলিশ।



















