নয়াদিল্লি, ১৫ জুন (আইএএনএস): সরকারি স্কুল বন্ধ ও একীভূতকরণের পরিকল্পনা নিয়ে তেলঙ্গানা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানাল বিজেপি। সোমবার দলটির রাজ্য শাখা সরকারকে ‘সম্পূর্ণ ব্যর্থ’ বলে আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করে, শিক্ষা ক্ষেত্রকে অবহেলা করছে রাজ্যের কংগ্রেস সরকার।
তেলঙ্গানা বিজেপির রাজ্য মুখ্য মুখপাত্র এন. ভি. সুভাষ বলেন, “এই সরকার ব্যর্থ। এই দেশের প্রতিটি মানুষের শিক্ষার অধিকার রয়েছে। শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রতিটি নাগরিক ও প্রতিটি শিশুর শেখার সুযোগ পাওয়া উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “আজকের শিশুরাই আগামী দিনের দেশ গড়বে। প্রত্যেকেরই শিক্ষা এবং বিদ্যালয়ে যাওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী, যিনি একইসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বও সামলাচ্ছেন, বিভিন্ন অজুহাতে সরকারি স্কুল বন্ধ করে দিচ্ছেন।”
মুখ্যমন্ত্রী রেভন্ত রেড্ডির সরকারি স্কুল পুনর্গঠন সংক্রান্ত পরিকল্পনাকে ঘিরে এই বিতর্কের সূত্রপাত। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রাজ্যের গ্রাম ও ছোট জনবসতিতে থাকা বহু স্কুল বন্ধ করে প্রায় ২৭ হাজার স্কুলকে একীভূত করে প্রায় ৪ হাজার বৃহত্তর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এই সম্ভাব্য পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহল এবং নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এর ফলে বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় শিক্ষার সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এই প্রসঙ্গে তেলঙ্গানা সেভ এডুকেশন কমিটি (টিএসইসি)-র নেতা জি. হারাগোপাল বলেন, “গ্রাম ও ছোট জনবসতিতে স্কুল বন্ধ এবং ২৭ হাজার স্কুলকে ৪ হাজারে নামিয়ে আনার প্রস্তাব অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”
তিনি বলেন, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের জন্য প্রতিটি গ্রামে একটি সরকারি স্কুলের উপস্থিতি অপরিহার্য। একইসঙ্গে তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে এই ধরনের মন্তব্য ও পরিকল্পনা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান।
টিএসইসি-র পক্ষ থেকে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বাড়ানোরও দাবি জানানো হয়েছে। সংগঠনের মতে, রাজ্য সরকারের মোট বাজেটের অন্তত ২০ শতাংশ শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যয় করা উচিত, যাতে সমস্ত সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো উন্নত করা যায় এবং সকলের জন্য মানসম্মত, সমতাভিত্তিক ও বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
স্কুল একীভূতকরণ ইস্যুকে কেন্দ্র করে তেলঙ্গানায় রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, সরকারের এই নীতি প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগকে দুর্বল করবে। অন্যদিকে, নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠন সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো রক্ষা ও সম্প্রসারণের দাবিতে সরব হয়েছে।



















