আগরতলা, ১৪ জুন: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে কেন্দ্র সরকার একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ পরিবহণ ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনেয়াল। রবিবার আগরতলায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, জলপথ ও স্থলপথের উন্নয়নের মাধ্যমে উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে চলেছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির আওতায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, আধুনিক অবকাঠামো এবং জলপথের সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আরও বিকশিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সর্বানন্দ সোনোয়াল বলেন, আগামী দিনে গোমতী নদীকে কেন্দ্র করে জলপথে বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কৃষিপণ্য, হস্তশিল্প এবং অন্যান্য উৎপাদিত সামগ্রী যাতে সহজে দেশ-বিদেশের বাজারে পৌঁছাতে পারে, তার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলার কাজ চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, গোমতী নদীকে কার্যকর জলপথ হিসেবে গড়ে তোলা গেলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জনগণ সরাসরি বিশ্ব বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।
এ প্রসঙ্গে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি জানান, গোমতী নদীর নাব্যতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় কাজ চলছে এবং ভবিষ্যতে এই নদীকে জলপথে পরিবহণ ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টি তিনি নীতি আয়োগের বৈঠকেও উত্থাপন করেছেন। পাশাপাশি রাজ্যের বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে আগরতলা বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের সম্ভাবনা নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান। এর ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে উত্তর-পূর্বাঞ্চল শুধু দেশের নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও যোগাযোগের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট মহল।



















