নয়াদিল্লি, ৮ জুন (আইএএনএস): মহিলা টি-২০ বিশ্বকাপ বরাবরই নতুন তারকার জন্ম দিয়েছে। ২০১৬ সালে বিশ্ব ক্রিকেট পেয়েছিল তরুণ হেইলি ম্যাথিউজ-কে, যিনি মাত্র ১৮ বছর বয়সে ফাইনালে ম্যাচের সেরা হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে শিরোপা জিততে সাহায্য করেছিলেন। বর্তমানে তিনিই দলের অধিনায়ক।
২০১৮ সালে নজর কেড়েছিলেন ইংল্যান্ডের স্পিনার সোফি একলেস্টোন। ২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে বিশ্ব ক্রিকেটকে চমকে দিয়েছিলেন ভারতের শেফালি বর্মা।
আগামী ১২ জুন থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে অনুষ্ঠিত হতে চলা ১২ দলের মহিলা টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এও উঠে আসতে পারেন নতুন মুখ। এমনই পাঁচ উদীয়মান ক্রিকেটারকে নিয়ে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।
ভারতের দ্রুতগতির বোলিং বিভাগের দীর্ঘদিনের খোঁজ হয়তো শেষ হতে চলেছে চণ্ডীগড়ের নন্দিনী শর্মার মাধ্যমে। গত মাসে চেলমসফোর্ডে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-২০ আন্তর্জাতিক অভিষেকে তিনি ৩৪ রানে ৩ উইকেট নিয়ে নজর কেড়েছিলেন।
এর আগে মহিলা প্রিমিয়ার লিগ (ডব্লিউপিএল) ২০২৬-এ দিল্লি ক্যাপিটালস উইমেন-এর হয়ে ১০ ম্যাচে ১৭ উইকেট নিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। এর মধ্যে ছিল একটি হ্যাটট্রিক এবং এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট।
রেণুকা সিং ঠাকুর এখনও ইংল্যান্ড সফরে খেলেননি, আর অমনজ্যোত কৌর ও কাশভি গৌতম চোটের কারণে বাইরে। ফলে নন্দিনীর গতি, নির্ভুলতা এবং ডেথ ওভারে কার্যকর বোলিং ভারতের জন্য বড় সম্পদ হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং গভীরতা বরাবরই ঈর্ষণীয়। সেই তালিকায় দ্রুত উঠে এসেছেন জর্জিয়া ভল। ২০২৪ সালে ভারতের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচেই শতরান করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের আগমনী বার্তা দেন।
২০২৬ সালের শুরুতে আবারও ভারতের বিরুদ্ধে শতরান করে নিজের ধারাবাহিকতার প্রমাণ দেন। মার্চে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে মাত্র ৫৩ বলে ১০১ রান করে তিনি আইসিসি মহিলা টি-২০ ব্যাটিং র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠে আসেন।
মাত্র ১২টি টি-২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৪৭৪ রান করেছেন তিনি, গড় ৩৯.৫০ এবং স্ট্রাইক রেট ১৫৬.৪৩। বড় মঞ্চে রান করার ক্ষমতা তাঁকে অন্যতম বিপজ্জনক ব্যাটার হিসেবে তুলে ধরেছে।
ব্যাটিং অলরাউন্ডার কায়লা রেইনেকে খুব দ্রুতই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের ছাপ ফেলেছেন। ২০২৫ সালে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকাকে অনূর্ধ্ব-১৯ মহিলা বিশ্বকাপের ফাইনালে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
২০২৬ সালের প্রথমার্ধেই সিনিয়র দলের হয়ে প্রথম তিন ম্যাচে দু’বার ম্যাচের সেরা হয়েছেন তিনি। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টি-২০ অভিষেকে অপরাজিত ২৯ রান করে জয়সূচক ছক্কা হাঁকান।
এরপর নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ানডে অভিষেকেও শেষ ওভারে দুটি ছক্কা মেরে দলকে অবিশ্বাস্য জয় এনে দেন। চাপের মুখে তাঁর পারফরম্যান্স ইতিমধ্যেই প্রশংসা কুড়িয়েছে।
মাত্র ১৮ বছর বয়সী বাঁহাতি স্পিনার টিলি কর্টিন-কলম্যান ইতিমধ্যেই ইংল্যান্ডের অন্যতম সম্ভাবনাময় বোলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ানডে অভিষেকে দুই উইকেট নিয়ে নজর কাড়েন তিনি। ২০২৪ সালে কেন্টের হয়ে অভিষেকের পর দক্ষিণ-পূর্ব স্টার্সের হয়ে দ্রুত উন্নতি করেন।
শার্লট এডওয়ার্ডস কাপে এক ওভারে টানা চার উইকেট নিয়ে শিরোনামে আসেন। এছাড়া ২০২৫ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ মহিলা টি-২০ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৮ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচ জেতানো স্পেল করেন।
স্কটল্যান্ডের অন্যতম উজ্জ্বল তরুণ প্রতিভা ডার্সি কার্টারও এই বিশ্বকাপে নজর কাড়তে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ৫২ রানের ইনিংস খেলে তিনি স্কটল্যান্ডকে টানা দ্বিতীয়বার মহিলা টি-২০ বিশ্বকাপের মূলপর্বে তুলতে বড় ভূমিকা নেন।
মাত্র ২০ বছর বয়সে তিন বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছেন ডার্সি। ইতিমধ্যেই তিনি স্কটল্যান্ডের মহিলা টি-২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বাধিক রান সংগ্রাহকদের তালিকায় তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছেন।
বিশ্বকাপের মঞ্চে এই পাঁচ তরুণ ক্রিকেটারের পারফরম্যান্সই আগামী দিনের মহিলা ক্রিকেটের নতুন তারকা নির্ধারণ করতে পারে।



















