বিশাখাপত্তনম, ৮ জুন (আইএএনএস) : অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম স্টিল প্ল্যান্টে সোমবার গলিত ইস্পাত বহনকারী একটি ল্যাডলে বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ৮ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ৬ জন।
প্ল্যান্ট কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেল প্রায় ৪টা ১৫ মিনিট নাগাদ স্টিল প্ল্যান্টের এসএমএস-২ এবং এসটিসি-৩ হিট ফ্যাসিলিটিতে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। সেই সময় প্রায় ১,৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার গলিত ইস্পাত উত্তোলনের কাজ চলছিল।
হঠাৎ করে গলিত ইস্পাতবাহী ল্যাডলে বিস্ফোরণ ঘটে এবং বিপুল পরিমাণ গলিত ইস্পাত বাইরে ছিটকে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে প্ল্যান্ট এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিক ও কর্মচারীরা প্রাণ বাঁচাতে নিরাপদ স্থানে ছুটে যান।
দুর্ঘটনার পরপরই স্টিল প্ল্যান্টের নিরাপত্তা কর্মী, পুলিশ ও দমকল বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করেন।
মৃতদের মধ্যে ৬ জন স্টিল প্ল্যান্টের স্থায়ী কর্মী এবং ২ জন চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক রয়েছেন। মৃতদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন আপ্পা রাও, প্রভাকর রাও, কৃষ্ণ, রমণা এবং ত্রিনাথ।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আহত ৬ জনের মধ্যে ৩ জনকে কিমস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকি ৩ জনকে সেভেন হিলস হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে দুর্ঘটনার পরিস্থিতি ও উদ্ধারকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সব সরকারি দপ্তরের সমন্বয়ে দ্রুত ত্রাণ ও পুনর্বাসন ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিশাখা স্টিল প্ল্যান্টের এই দুর্ঘটনা তাঁকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে এবং নিহত শ্রমিকদের পরিবারের প্রতি তিনি সমবেদনা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় ভারী শিল্প ও ইস্পাত প্রতিমন্ত্রী ভূপতিরাজু শ্রীনিবাস ভার্মা জানিয়েছেন, পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পরই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
তিনি বলেন, এই মর্মান্তিক ঘটনায় তিনি গভীরভাবে শোকাহত। নিহত শ্রমিকদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি জানান যে, প্ল্যান্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে শিল্প নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও প্রযুক্তিগত ত্রুটির জেরে ল্যাডল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।



















