নয়াদিল্লি, ৩০ এপ্রিল (আইএএনএস): দেশের সড়ক অবকাঠামোর দ্রুত উন্নয়নের ফলে ভারতের লজিস্টিক খরচ কমে ৯ শতাংশে নেমে আসবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গড়করি।
মন্ত্রী জানান, আইআইটি বেঙ্গালুরু, আইআইটি কানপুর এবং আইআইটি চেন্নাইয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, সড়ক অবকাঠামোর উন্নতির কারণে ইতিমধ্যেই লজিস্টিক খরচ প্রায় ৬ শতাংশ কমে ১০ শতাংশে নেমে এসেছে।
তিনি বলেন, আগে ভারতে লজিস্টিক খরচ জিডিপির প্রায় ১৬ শতাংশ ছিল। তুলনায়, চীনে এটি প্রায় ১৮ শতাংশ এবং আমেরিকা ও ইউরোপে প্রায় ১২ শতাংশ।
৫৭তম ইইপিসি ইন্ডিয়া ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গড়করি বলেন, অবকাঠামো, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং টেকসই পদ্ধতি রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও জানান, দেশে ৩৬টি গ্রিন এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণাধীন রয়েছে, যা লজিস্টিক খরচ কমাতে বড় ভূমিকা নেবে।
গড়করি বলেন, ভারতের দুই-চাকার গাড়ি শিল্প ইতিমধ্যেই উৎপাদনের প্রায় ৫০ শতাংশ রপ্তানি করছে। এছাড়া বিশ্বের বড় বড় গাড়ি নির্মাতা সংস্থাগুলি ভারতে উৎপাদন বাড়িয়ে এখান থেকে রপ্তানির দিকে নজর দিচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ভারতের অটোমোবাইল শিল্প সম্প্রতি জাপানকে পিছনে ফেলে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অবস্থানে পৌঁছেছে। বর্তমানে ভারতের শিল্পের আকার প্রায় ২২ লক্ষ কোটি টাকা, যেখানে আমেরিকা ও চীন যথাক্রমে ৭৯ লক্ষ কোটি ও ৪৯ লক্ষ কোটি টাকার শিল্প নিয়ে শীর্ষে রয়েছে।
বিকল্প জ্বালানি ও বায়োফুয়েলের ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রগতির কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই খাতে ভারত বিশ্বে শীর্ষস্থানে পৌঁছতে পারে।
তিনি শিল্পমহলকে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি কারখানা থেকে বন্দর পর্যন্ত পণ্য পরিবহনে বৈদ্যুতিক ট্রাক ব্যবহারের আহ্বান জানান।
ইইপিসি ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান পঙ্কজ চাড্ডা বলেন, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত ও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে বাণিজ্য ব্যাহত হওয়া সত্ত্বেও ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারিং রপ্তানিকারকরা তাদের স্থিতিস্থাপকতা বজায় রেখেছে।
তিনি জানান, একাধিক আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের মোট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য রপ্তানি ১২২.৪৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে সর্বকালের রেকর্ড গড়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪.৮৬ শতাংশ বেশি।


















