নয়াদিল্লি, ২০ এপ্রিল (আইএএনএস): রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)-এর প্রধান মোহন ভাগবত সোমবার সংস্কৃত ভাষা শেখার ওপর জোর দিয়ে বলেন, এটি ভারতের “জাতির আত্মা” এবং দেশের সভ্যতার ধারাবাহিকতার অন্যতম ভিত্তি।
দিল্লিতে সংস্কৃত ভারতী-র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। সংগঠনটি সংস্কৃতকে জীবন্ত ও প্রচলিত ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে কাজ করে।
ভাগবত বলেন, “সংস্কৃত একটি ভাষা ঠিকই, কিন্তু তা শুধুমাত্র ভাষা নয়। ভারতে সংস্কৃতই জাতির আত্মা, কারণ এটি চিন্তা, জীবন ও সংস্কৃতির প্রাচীনতম ঐতিহ্য, যা আজও জীবন্ত রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, ভারত কেবল ভৌগোলিক বা রাজনৈতিক সত্তা নয়, বরং একটি জীবন্ত ঐতিহ্য, যার ওপর জীবনধারার ধারাবাহিকতা নির্ভর করে।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে ভাগবত জানান, ছোটবেলায় স্কুলে সংস্কৃত পড়তে গিয়ে তা কঠিন মনে হতো, কারণ শ্লোক মুখস্থ করার চাপ ছিল। তবে বাড়িতে স্বাভাবিকভাবে সেই শ্লোকগুলি শুনলে তা আর কঠিন লাগত না।
তিনি বলেন, আজও ছাত্রছাত্রীরা সংস্কৃতকে কঠিন ভাষা বলে মনে করে। কিন্তু বাস্তবে ভাষা শেখার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো কথোপকথনের মাধ্যমে শেখা, শুধুমাত্র বই পড়ে নয়।
ভাষা শেখার ক্ষেত্রে নিয়মিত শোনা ও বলার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভ্রমণের সময় স্থানীয় ভাষা পুরোপুরি না জানলেও মানুষ অর্থ বুঝতে পারে, কারণ ভাষা ব্যবহারের মাধ্যমেই শেখা সম্ভব।
আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত আরও বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই সংস্কৃতের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে সক্ষম হয়েছে সংস্কৃত ভারতী। গত ১৫ বছরে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিতেও বড় পরিবর্তন এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মানুষ তাদের সাংস্কৃতিক শিকড়ের সঙ্গে পুনরায় যুক্ত হতে চাইছে, আর সেই প্রেক্ষাপটে সংস্কৃত শেখা ও বোঝার সুযোগ করে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন কার্যালয় নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, এটি আনন্দের বিষয় হলেও কাজের কারণ নয়, বরং কাজের প্রসারের ফল।



















