নয়াদিল্লি, ১৪ এপ্রিল (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে মালদা জেলা থেকে প্রচার শুরু করে কংগ্রেস স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—একসময়কার শক্ত ঘাঁটিতে ফের পা জমাতে চায় তারা। তবে রাজনৈতিক সমীকরণ বলছে, বহুমুখী লড়াইয়ে বিজেপি-বিরোধী ভোট ভাঙার সম্ভাবনাই বেশি।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী-র মালদা থেকে প্রচার শুরু করা কংগ্রেসের কৌশলগত পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে। একসময় কংগ্রেসের গড় হিসেবে পরিচিত এই জেলা গত এক দশকে দ্রুত রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাক্ষী হয়েছে।
এই প্রেক্ষিতে কংগ্রেস এখনও ভরসা রাখছে দলের প্রাক্তন শক্তিশালী নেতা আবু বরকত গনি খান চৌধুরী-র উত্তরাধিকারকে কেন্দ্র করে। ‘বারকদা’ নামে পরিচিত এই নেতা আজও মালদার মানুষের মনে গভীর প্রভাব রেখে গেছেন।
২০০৬ সালে তাঁর মৃত্যুর পরও তাঁর পরিবার রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী রয়ে গেছে। তাঁর ভাই আবু হাসেম খান চৌধুরী মালদহ দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্র থেকে একাধিকবার জিতেছেন। পরবর্তীতে তাঁর ছেলে ইশা খান চৌধুরীও সেই আসনে জয়ী হন।
মালদহ উত্তর কেন্দ্রে তাঁর আত্মীয়া মৌসুম নূর ২০০৯ ও ২০১৪ সালে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে জয়ী হলেও পরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। ২০১৯ সালে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র খগেন মুর্মুর কাছে পরাজিত হন। সম্প্রতি তিনি ফের কংগ্রেসে ফিরে এসেছেন এবং মালতিপুর বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হচ্ছেন।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মালদায় ত্রিমুখী বা বহুমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা প্রবল। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (তৃণমূল), কংগ্রেস এবং বিজেপি ছাড়াও বামফ্রন্ট-আইএসএফ জোট, অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন (এআইএমআইএম) এবং জনতা উন্নয়ন পার্টিও লড়াইয়ে রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বহুমুখী লড়াই বিশেষ করে সংখ্যালঘু ভোটে বিভাজন ঘটাতে পারে, যার ফলে বিজেপি কিছুটা সুবিধা পেতে পারে।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে মালদা জেলার ১২টি বিধানসভা আসনের মধ্যে কংগ্রেস ও বিজেপি সমানভাবে ৬টি করে আসনে এগিয়ে ছিল, তৃণমূল কোনও আসনেই এগোতে পারেনি। তবে ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলই এগিয়ে ছিল।
২০১৬ সালে এই জেলায় কংগ্রেস ১২টির মধ্যে ৮টি আসন জিতেছিল, তৃণমূল পেয়েছিল ৩টি এবং বিজেপি ১টি।
জেলার জনসংখ্যাগত বৈশিষ্ট্যও রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, মালদায় মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৫১.২৭ শতাংশ এবং হিন্দু জনসংখ্যা প্রায় ৪৭.৯৯ শতাংশ।
উল্লেখ্য, প্রথম দফায় ২৩ এপ্রিল মালদায় ভোটগ্রহণ হবে এবং ৪ মে গণনা নির্ধারিত রয়েছে।



















