নয়াদিল্লি, ১২ এপ্রিল (আইএএনএস): ভারতীয় রেলের পরিকাঠামো উন্নয়নে বড়সড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র সরকার। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ১০০টি নতুন রেল প্রকল্পে মোট ১.৫৩ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ অনুমোদন করা হয়েছে বলে রবিবার জানাল রেল মন্ত্রক। এই প্রকল্পগুলির আওতায় ৬,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি রেলপথ নির্মাণ ও উন্নয়ন করা হবে।
রেল মন্ত্রকের প্রকাশিত তথ্যপত্র অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে যেখানে ৬৪টি প্রকল্পে ৭২,৮৬৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল (প্রায় ২,৮০০ কিমি), সেখানে এবারের অনুমোদনে প্রকল্পের সংখ্যা বেড়েছে ৫৬ শতাংশ, রুট কভারেজ বেড়েছে ১১৪ শতাংশেরও বেশি এবং আর্থিক বিনিয়োগ বেড়েছে ১১০ শতাংশের বেশি।
অনুমোদিত ১০০টি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে নতুন রেললাইন, ডাবলিং ও মাল্টিট্র্যাকিং, বাইপাস লাইন, ফ্লাইওভার এবং কর্ড লাইন নির্মাণ। এই প্রকল্পগুলির মূল লক্ষ্য হল ব্যস্ত রুটগুলিতে চাপ কমানো, সময়ানুবর্তিতা বাড়ানো এবং যাত্রী পরিষেবা উন্নত করা। পাশাপাশি, এখনও পর্যাপ্ত রেল সংযোগ নেই এমন এলাকাগুলিকে সংযুক্ত করার দিকেও জোর দেওয়া হয়েছে।
মহারাষ্ট্র (১৭টি প্রকল্প), বিহার (১১), ঝাড়খণ্ড (১০) এবং মধ্যপ্রদেশ (৯) এই চারটি রাজ্যে সবচেয়ে বেশি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। শিল্প পরিবহণ, মালবাহী করিডর এবং যাত্রী চাহিদার কারণে এই রাজ্যগুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রক।
এই প্রকল্পগুলির ফলে মালবাহী করিডর আরও শক্তিশালী হবে, শিল্প সংযোগ বাড়বে এবং যাত্রী চলাচল সহজ হবে। ফলে দেশের সামগ্রিক লজিস্টিক নেটওয়ার্কেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
প্রধানমন্ত্রীর গতি শক্তি ন্যাশনাল মাস্টার প্ল্যানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে আদিবাসী ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে রেল সংযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ছত্তীসগঢ়ের রৌঘাট-জগদলপুর রেললাইন-সহ ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার একাধিক করিডর এই লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে—যার ফলে বাজার, স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও এই বিনিয়োগ তাৎপর্যপূর্ণ। ৩৫টিরও বেশি প্রকল্পের ব্যয় ১,০০০ কোটির বেশি। উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে কাসারা-মানমাড তৃতীয় ও চতুর্থ লাইন, খারসিয়া-নয়া রায়পুর-পারমালকাসা পঞ্চম ও ষষ্ঠ লাইন, ইটারসি-নাগপুর চতুর্থ লাইন এবং সেকেন্দ্রাবাদ-ওয়াদি তৃতীয় ও চতুর্থ লাইন। এই বড় প্রকল্পগুলিতেই ২৮,০০০ কোটির বেশি বিনিয়োগ করা হচ্ছে।
‘মিশন ৩০০০ এমটি’-র লক্ষ্য অনুযায়ী মাল পরিবহণ ক্ষমতা বাড়ানোতেও এই প্রকল্পগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। পাশাপাশি কয়লা ও খনিজ পরিবহণ, বন্দর সংযোগ বৃদ্ধি এবং উপকূলীয় বাণিজ্যেও গতি আসবে।
এই বিশাল বিনিয়োগের ফলে কর্মসংস্থান বাড়বে, ইস্পাত ও সিমেন্টের মতো মূল শিল্পে চাহিদা তৈরি হবে এবং দেশের লজিস্টিক খরচ কমবে বলে মনে করছে কেন্দ্র। রেল মন্ত্রকের মতে, “এটি শুধু উন্নয়ন নয়, দেশের আগামী অর্থনৈতিক উত্থানের ভিত্তি তৈরি করার পদক্ষেপ।”



















