বঙ্গের এসআইআর বিতর্কে তৃণমূল ‘চাপে’, অযোগ্য ভোটার নাম বাদে অস্বস্তি: বিজেপি

নয়াদিল্লি, ৩ মার্চ (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, অযোগ্য ভোটারদের নাম বাদ পড়ায় তৃণমূল কংগ্রেস ‘চাপে’ পড়েছে এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইচ্ছাকৃতভাবে বিতর্ক উসকে দিয়ে সরকারের ‘ব্যর্থতা’ থেকে নজর ঘোরাতে চাইছেন।

আইএএনএস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সৈয়দ শাহনওয়াজ হোসেন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চান, যারা আর বেঁচে নেই, মৃত ব্যক্তিরাও যেন ভোটার তালিকায় থেকে যান।”

তিনি দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে একজন কর্মীর নাম পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্রে থাকত এবং তিনি সারা দিন ঘুরে ভোট দিতেন। “এখন প্রযুক্তিগতভাবে একটি নাম একটি জায়গাতেই রয়েছে। অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। তাদের সব নাম মুছে গেলে তারা খুব উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। নির্বাচনে তারা ভরাডুবি করবে, বিজেপি জিতবে,” বলেন হুসেন।

হুসেন আরও অভিযোগ করেন, এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে এবং নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী আসলে তাঁর সরকারের কাজকর্ম নিয়ে আলোচনা এড়াতে চাইছেন। “তিনি চান না তাঁর সরকারের কাজ নিয়ে আলোচনা হোক, তাই এসআইআর-কে প্রধান ইস্যু বানাচ্ছেন,” মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে, বিহারের সিওয়ানে রাজ্যের মন্ত্রী অশোক চৌধুরী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বলেন, জনসমক্ষে বক্তব্য না রেখে তাঁর উচিত আইনি পথে এগোনো। “তিনি নিজেই সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন। যদি মনে করেন নির্বাচন কমিশন ভুল করেছে, তবে আবার সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করুন,” বলেন তিনি।

এদিকে কংগ্রেস নেতা উদিত রাজ ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন বয়কট প্রসঙ্গে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “এখনই আমরা তা বলছি না। পরিস্থিতি তৈরি হলে দল সিদ্ধান্ত নেবে। আমাদের ভোটারদের নাম চোখের সামনে কেটে দেওয়া হচ্ছে, তারা ভোট দিতে পারবে না। বিজেপি জালিয়াতির মাধ্যমে নির্বাচন জিততে চায়।”

এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে এই বিতর্কে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন দল একে অপরের বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রক্রিয়া প্রভাবিত করার অভিযোগ তুলছে। তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠিত নিয়ম মেনেই পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।

Leave a Reply