News Flash

  • Home
  • মুখ্য খবর
  • ত্রিপুরায় ভারতের প্রথম রাজ্য উদ্ভাবন মিশন (সিম) চালু করেছেন ডঃ জিতেন্দ্র সিং
Image

ত্রিপুরায় ভারতের প্রথম রাজ্য উদ্ভাবন মিশন (সিম) চালু করেছেন ডঃ জিতেন্দ্র সিং

আগরতলা, ২৬ ফেব্রুয়ারি : আজ ২৬ ফেব্রুয়ারী আগরতলায় ভারতের প্রথম রাজ্য উদ্ভাবন মিশন (সিম) এর উদ্বোধন করেছেন কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ভূবিজ্ঞান, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, কর্মী, জনঅভিযোগ, পেনশন, পারমাণবিক শক্তি এবং মহাকাশ প্রতিমন্ত্রী (স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত) ডঃ জিতেন্দ্র সিং৷ এই উপলক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, উদ্ভাবনকে পরীক্ষাগার এবং মহানগর করিডোরের বাইরে জেলা, গ্রাম এবং প্রতিটি নাগরিকের কাছে পৌঁছাতে হবে, যাদের আকাঙ্ক্ষা একটি নতুন ভারতের ধারণাকে সংজ্ঞায়িত করবে৷ উত্তর-পূর্বকে ভারতের প্রবৃদ্ধির “নতুন ইঞ্জিন” হিসাবে বর্ণনা করে মন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরার এই উদ্যোগ প্রযুক্তির বিকেন্দ্রীকরণ এবং সুযোগের গণতন্ত্রীকরণের ক্ষেত্রে একটি নির্ণায়ক পদক্ষেপ।

ত্রিপুরার সিম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডঃ) মানিক সাহা, নীতি আয়োগের চেয়ারম্যান সুমন বেরি, নীতি আয়োগের সদস্য ডঃ ভি.কে. সারস্বত, রাজ্য সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি, অর্থ, পরিকল্পনা ও সমন্বয় দপ্তরের মন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়, মুখ্য সচিব জিতেন্দ্র কুমার সিনহা, তথ্যপ্রযুক্তি সচিব রাজীব কুমার সেন, এনইজিডির ম্যানেজিং ডিরেক্টর কিরণ গিত্যে সহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতা, উদ্ভাবক, শিক্ষার্থী এবং শিল্প প্রতিনিধিরা৷ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডঃ জিতেন্দ্র সিং ত্রিপুরায় সিম চালু করাকে অটল উদ্ভাবন মিশন (এইম)-এর একটি স্বাভাবিক অগ্রগতি হিসাবে বর্ণনা করেছেন, যা প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর কল্পনা করা একটি উদ্যোগ। উদ্ভাবন মিশনের ধারণাটি একসময় সরকারি ব্যবস্থায় অপরিচিত ছিল বলে স্মরণ করে তিনি বলেন, গত কয়েক বছর ধরে এইম একটি দেশব্যাপী আন্দোলনে রূপান্তরিত হয়েছে। প্রায় ১০,০০০ অটল টিঙ্কারিং ল্যাব (এটিএল) প্রতিষ্ঠা করা থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময়ে এই সংখ্যা ৫০ হাজারে সম্প্রসারিত হবার সিদ্ধান্ত পর্যন্ত, উদ্ভাবনী বাস্তুতন্ত্র এখন জেলা এবং ছোট শহরগুলির গভীরে পৌঁছে গেছে, যা সারা দেশের স্কুল শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করছে৷

মন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার এইম সম্প্রসারণ এবং রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে রাজ্য উদ্ভাবন মিশন প্রচারের সিদ্ধান্ত সহযোগিতামূলক এবং প্রতিযোগিতামূলক সম্প্রসারণের চেতনাকে প্রতিফলিত করে। এ ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ড.) মানিক সাহার নেতৃত্বে ত্রিপুরা নেতৃত্ব দিয়েছে, যা দেশের বাকি অংশের জন্য একটি উদাহরণ স্থাপন করেছে। মন্ত্রী এটিকে “দ্বৈত ইঞ্জিন” পদ্ধতির প্রদর্শন হিসাবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গি এবং রাজ্য-স্তরের বাস্তবায়ন একসাথে কাজ করছে৷

২০১৪ সাল থেকে এর উপর প্রধানমন্ত্রীর জোর দেওয়ার কথা স্মরণ করে ডঃ জিতেন্দ্র সিং গত এক দশকের মধ্যে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রূপান্তরের কথা তুলে ধরেন৷ তিনি বলেন, সুষম জাতীয় উন্নয়নের জন্য সমস্ত অঞ্চল জুড়ে সমান অগ্রগতি প্রয়োজন। তিনি উন্নত যোগাযোগ, রেল ও বিমান পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ, পর্যটন বৃদ্ধি এবং বৃহত্তর জাতীয় সংহতির কথা উল্লেখ করে বলেন, এই অঞ্চলটি বিচ্ছিন্নতাবাদ থেকে ভারতের উন্নয়নের গল্পে মূলধারার অংশগ্রহণে রূপান্তরিত হয়েছে।

উদ্যোক্তা হিসেবে ত্রিপুরার কর্মক্ষমতার কথা তুলে ধরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী সিং জানান, এই রাজ্যে আজ ১৫০ টিরও বেশি নিবন্ধিত স্টার্টআপ রয়েছে, যা গত পাঁচ বছরে স্টার্টআপ স্বীকৃতির ক্ষেত্রে গড়ে প্রায় ৬৬ শতাংশ বৃদ্ধি রেকর্ড করেছে। এই উদ্যোগগুলির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হল নারী-নেতৃত্বাধীন, যা ত্রিপুরাকে উত্তর-পূর্বের মধ্যে উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানীয় করে তুলেছে। তিনি আরও বলেন, সিম চালু হওয়ার ফলে উদ্ভাবনী ধারণার বাণিজ্যিকীকরণ আরও সমর্থন পাবে এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করা হবে।

ডঃ জিতেন্দ্র সিং ত্রিপুরার শক্তিশালী এমএসএমই ভিত্তির প্রতিও ইঙ্গিত করেছেন৷ ২০২৬ সালের গোড়ার দিকে উদ্যম পোর্টালে ৩.১৩ লক্ষেরও বেশি নিবন্ধিত এমএসএমই রয়েছে, যার মধ্যে ১.১৮ লক্ষেরও বেশি আনুষ্ঠানিক উদ্যম নিবন্ধন এবং উদ্যম অ্যাসিস্ট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রায় ২ লক্ষ ক্ষুদ্র-উদ্যোগ রয়েছে। তিনি বলেন, সিমের মাধ্যমে এমএসএমইগুলির বৃদ্ধি নতুন গতি পাবে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক সম্প্রসারণে অবদান রাখবে।

দেশের বৃহত্তর স্টার্টআপ যাত্রার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০১৪ সালে ভারত কয়েকশ স্টার্টআপ থেকে বেড়ে আজ দুই লক্ষেরও বেশি হয়েছে, যার ফলে ২১ লক্ষেরও বেশি কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে, যার প্রায় অর্ধেকই টায়ার-২ এবং টায়ার-৩ শহর থেকে উদ্ভূত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী-নেতৃত্বাধীন উদ্যোগ রয়েছে, যা দেশজুড়ে ব্যাপক উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনকে তুলে ধরেছে।

ত্রিপুরার অনন্য শক্তি, বিশেষ করে বাঁশ এবং রাবার সম্পদ সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরেন মন্ত্রী শ্রী সিং৷ তিনি বলেন, এগুলি উচ্চ-মূল্যের উৎপাদনকে চালিত করতে পারে, যার মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতের সাথে যুক্ত অ্যাপ্লিকেশন, মহাকাশের জন্য জৈব জ্বালানি এবং বিশেষায়িত উপকরণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, জাতীয় অগ্রাধিকারের জন্য স্থানীয় শক্তিকে কাজে লাগানো প্রবৃদ্ধির পরবর্তী পর্যায় নির্ধারণ করবে।

ডঃ জিতেন্দ্র সিং নিবিড় প্রযুক্তি এবং গবেষণা-চালিত উদ্যোগগুলিকে সমর্থন প্রদানকারী সাম্প্রতিক নীতিগত উদ্যোগগুলির কথাও উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে নিবিড় প্রযুক্তির স্টার্টআপগুলির জন্য ১০,০০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন, সিএসআইআর-সমর্থিত স্টার্টআপগুলির জন্য সুস্থায়ী শর্ত শিথিলকরণ এবং উদ্যোগগুলির বৃদ্ধিতে সহায়তা করার জন্য ১ লক্ষ কোটি টাকার গবেষণা, উন্নয়ন এবং উদ্ভাবন (আরডিআই) তহবিল চালু করা। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপগুলি ঝুঁকি গ্রহণ, উদ্ভাবন এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের প্রতি সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন৷

সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এআই ইমপ্যাক্ট সামিটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানবতার সেবা করে এমন প্রযুক্তির মাধ্যমে শাসন ও উদ্যোগের ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে। তিনি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে বলেন, সিম ত্রিপুরা ডিজিটাল ইন্ডিয়া এবং ইজ অফ লিভিং সংস্কারের মতো জাতীয় অগ্রাধিকারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে রাজ্য কর্মসূচিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডিজিটাল সরঞ্জামগুলিকে একীভূত করবে। তিনি বলেন, প্রযুক্তিকে অবশ্যই অপ্রকাশিতদের কাছে পৌঁছানোর এবং সুবিধাবঞ্চিতদের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে ন্যায়বিচারকে উৎসাহিত করতে হবে।

উদ্ভাবনকে একটি সম্মিলিত দায়িত্ব বলে অভিহিত করে ডঃ জিতেন্দ্র সিং বলেন, লক্ষ্য হল এমন একটি বাস্তুতন্ত্র তৈরি করা যেখানে প্রত্যন্ত গ্রামের একজন শিক্ষার্থী, একটি ছোট শহরের একজন স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতা এবং একটি রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গবেষক ভারতের উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য সমানভাবে ক্ষমতায়িত বোধ করবেন। তিনি এক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের বৃহত্তর অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানান৷ সেই সাথে এও যোগ করেন যে, একসময় বন্ধ বিবেচিত ক্ষেত্রগুলি, যার মধ্যে পারমাণবিক শক্তিও অন্তর্ভুক্ত ছিল, এখন বৃহত্তর সহযোগিতার জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

পরিশেষে তিনি বলেন, ত্রিপুরার যাত্রা একটি শক্তিশালী বার্তা পাঠাবে৷ যখন দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়নের সাথে মিলিত হয় এবং নীতি অংশগ্রহণের সাথে মিলিত হয়, তখন রূপান্তর অনিবার্য হয়ে ওঠে। ভারতের উদ্ভাবন দশককে ভারতের নির্ণায়ক শতাব্দীতে পরিণত করার জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য, সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্র এবং বিজ্ঞান ও সমাজের মধ্যে স্থায়ী সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি৷

Releated Posts

উত্তর লালছড়িতে উত্তেজনা, ভোটকে ঘিরে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি

আগরতলা, ১২ এপ্রিল: এডিসি নির্বাচনের দিন উত্তর লালছড়ি এলাকায় চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাধারণ এলাকার কিছু…

ByByReshmi Debnath Apr 12, 2026

এডিসি নির্বাচন: দুপুর ১ টা পর্যন্ত ভোটের হার ৬৫ শতাংশ

আগরতলা, ১২ এপ্রিল: বেলা যতো গড়াচ্ছে এডিসি নির্বাচনে ভোটের হারও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। রাজ্য নির্বাচনের কমিশনের তথ্য অনুযায়ী,…

ByByReshmi Debnath Apr 12, 2026

মান্দাইয়ে ভোট দিলেন প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মন, জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী

আগরতলা, ১২ এপ্রিল: মান্দাইয়ে গিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন তিপরা মথা দলের সুপ্রিমো প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মন। রবিবার সকালেই…

ByByReshmi Debnath Apr 12, 2026

(updated) এডিসি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র দয়ালপাড়া: বোমা, গুলি, টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ

বক্সনগর, ১২ এপ্রিল: স্বশাসিত জেলা পরিষদ (এডিসি) নির্বাচনকে ঘিরে রবিবার ১৯ আমতলী–গোলাঘাটি কেন্দ্রের অন্তর্গত ৪০ নং বুথের দয়ালপাড়ায়…

ByByReshmi Debnath Apr 12, 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

<label for="comment">Comment's</label>

Scroll to Top