বেলডাঙা অশান্তি মামলা: সপ্তমবারের চেষ্টায় আজ আদালতে ৭ অভিযুক্তকে হাজির করবে এনআইএ

কলকাতা, ২৬ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): টানা তিনবার ব্যর্থ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার ফের একবার কলকাতার সিটি সেশনস কোর্টে বেলডাঙা অশান্তি মামলায় গ্রেফতার সাত অভিযুক্তকে হাজির করানোর চেষ্টা করবে জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)।

এটি হবে অভিযুক্তদের আদালতে তোলার চতুর্থ প্রচেষ্টা। এর আগে তিনবার রাজ্য পুলিশ প্রয়োজনীয় এসকর্ট না দেওয়ায় মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে কলকাতায় অভিযুক্তদের আনা সম্ভব হয়নি বলে সূত্রের খবর।

কলকাতা হাইকোর্ট-এর নির্দেশে বেলডাঙা অশান্তি ঘটনার তদন্তভার নিয়েছে এনআইএ। কেন্দ্রীয় সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজ্য সরকার এসকর্ট দিতে ব্যর্থ হলে তারা নিজেরাই অভিযুক্তদের আদালতে আনার ব্যবস্থা করবে। তবে এদিন রাজ্য পুলিশ এসকর্ট দেয় কি না, তা দেখার বিষয়।

সূত্রের খবর, অশান্তির ঘটনায় বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এনআইএ সাত অভিযুক্তের হেফাজত চাইতে পারে। তবে অভিযুক্তদের আদালতে তোলা এবং এনআইএ হেফাজত পাওয়া—দুই বিষয়ই নির্ভর করছে বৃহস্পতিবারের পরিস্থিতির উপর।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার এনআইএ কলকাতা হাইকোর্ট-এ আবেদন জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে মামলার কেস ডায়েরি কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ চায়। এনআইএ-র আইনজীবীর দাবি ছিল, গত মাসে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট-এর প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী-র ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারের এনআইএ তদন্তে আপত্তির আবেদন গ্রহণ না করা সত্ত্বেও রাজ্য পুলিশ কেস ডায়েরি দিতে অস্বীকার করছে।

আদালত ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কেস ডায়েরি হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়া হয় কি না, সেটিও নজরে রয়েছে।

গত মাসে মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙায় অশান্তির সূত্রপাত হয় ঝাড়খণ্ডে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুর খবর ঘিরে। ১৬ জানুয়ারি তাঁর দেহ বেলডাঙায় পৌঁছলে উত্তেজনা ছড়ায়। প্রতিবাদকারীরা জাতীয় সড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে ও পাথর ছুড়ে বিক্ষোভ দেখায়। শিয়ালদহ-লালগোলা শাখায় ট্রেন চলাচলও ব্যাহত হয়। ওই দিন এক মহিলা সাংবাদিক আক্রান্ত হন। প্রথম দিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও ১৭ জানুয়ারি ফের অশান্তি ছড়ায়।

এই ঘটনায় মোট ৩৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে এক জন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন (এআইএমআইএম) নেতা রয়েছেন।

হাই কোর্ট পর্যবেক্ষণ করেছিল, কেন্দ্র চাইলে এনআইএ-কে দিয়ে তদন্ত করাতে পারে। এরপর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তদন্তভার এনআইএ-র হাতে তুলে দেয়।

তদন্তে ইউএপিএ ধারার প্রয়োগের প্রাথমিক ভিত্তি রয়েছে কি না, সে বিষয়ে সিল করা খামে রিপোর্ট ডিভিশন বেঞ্চে জমা দিতে এনআইএ-কে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে রাজ্যের আবেদনে এনআইএ তদন্তে স্থগিতাদেশ দেয়নি শীর্ষ আদালত।

Leave a Reply