ইসলামাবাদ, ২৫ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস) : প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পছন্দের হাসপাতালে চিকিৎসা ও ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের পরামর্শের অনুমতি চেয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই। বুধবার পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে এ সংক্রান্ত আবেদন দাখিল করা হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
পিটিআইয়ের আইনজীবী সরদার লতিফ খোসা আবেদনটি দায়ের করেন। মঙ্গলবার চোখের সমস্যার ফলো-আপ চিকিৎসার জন্য ইমরান খানকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক ডন জানিয়েছে।
আবেদনটি ইমরান খানের পক্ষে দায়ের করা হয়েছে এবং ইসলামাবাদ জেলা নির্বাচন কমিশনারকে বিবাদী করা হয়েছে। এতে তোষাখানা মামলার প্রসঙ্গ উত্থাপন করা হয়েছে, যে মামলায় ২০২২ সালে প্রথম গ্রেফতার হন পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা।
পিটিশনে দাবি করা হয়েছে, ইমরান খানকে অবিলম্বে ইসলামাবাদের শিফা আন্তর্জাতিক হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে রেটিনা বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে চোখের যথাযথ চিকিৎসা করানো হোক। পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ফয়সাল সুলতান ও ডা. আসিম ইউসুফের সঙ্গে পরামর্শের অনুমতি দেওয়ার এবং তাঁদের পরীক্ষানিরীক্ষা ও চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার আবেদন জানানো হয়েছে।
পিটিশনে আরও বলা হয়েছে, চিকিৎসার সময় তাঁর পরিবারের সদস্যদের যথাযথভাবে জানানো এবং তাঁদের যুক্তিসঙ্গত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা হোক। পাশাপাশি, ইমরান খানের সমস্ত চিকিৎসা প্রতিবেদন ও পরীক্ষার সত্যায়িত অনুলিপি তাঁর আইনজীবীর কাছে হস্তান্তরের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আইনজীবীর বক্তব্য, ইমরান খানের বয়স ৭৩ বছর এবং তাঁর ক্রমবর্ধমান বয়স ও অবনতিশীল স্বাস্থ্য শুধু পরিবারের নয়, সমগ্র পাকিস্তানবাসীর জন্য উদ্বেগের বিষয়। তিনি অভিযোগ করেন, পরিবারের সদস্য বা স্বাধীন চিকিৎসকদের সঙ্গে কোনও তথ্য ভাগ না করে গোপনে চিকিৎসা পরীক্ষা চালানো হচ্ছে, যা গুরুতর সন্দেহের জন্ম দিচ্ছে।
পিটিশনে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (পিমস) হাসপাতালে সম্পন্ন হওয়া চিকিৎসা পরীক্ষা বা প্রক্রিয়ার ফলাফল সম্পর্কে কিছুই জানানো হয়নি। এই ধরনের গোপনীয়তা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইমরান খানের ডান চোখে সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অক্লুশন (সিআরভিও) ধরা পড়ার খবর প্রকাশ্যে আসে। ২৪ জানুয়ারি তাঁর প্রথম চিকিৎসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও সরকার পাঁচ দিন পর তা প্রকাশ করে।
এর পর থেকেই বিরোধীরা সরকারের বিরুদ্ধে স্বচ্ছতার অভাব ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত না করার অভিযোগ তুলেছে। যদিও সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
মঙ্গলবার ভোরে ফলো-আপ চিকিৎসার জন্য ইমরান খানকে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেসে নিয়ে যাওয়া হয়।

