যুব কংগ্রেসের বিরুদ্ধে পদক্ষেপে নিন্দা প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর, ‘দৃঢ় সমর্থন’-এর বার্তা

নয়াদিল্লি, ২৫ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও ওয়ায়ানাডের সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রা বুধবার যুব কংগ্রেসের ‘শার্টলেস’ প্রতিবাদের জেরে পুলিশের পদক্ষেপকে “অত্যন্ত নিন্দনীয়” বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, দলের তরফে যুব কংগ্রেসের “নির্ভীক সৈনিকদের” পাশে দৃঢ়ভাবে থাকা হবে।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত ‘ইন্ডিয়া-এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এ এই প্রতিবাদ হয়। অভিযোগ, অনুষ্ঠানের মাঝেই যুব কংগ্রেস কর্মীরা শার্ট খুলে ভেতরের টি-শার্টে লেখা সরকার ও প্রধানমন্ত্রী বিরোধী স্লোগান প্রদর্শন করেন, যার ফলে সামিটে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ভারতের অগ্রগতি তুলে ধরতেই ওই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল।

এই ঘটনায় দিল্লি পুলিশ যুব কংগ্রেস সভাপতি উদয় ভানু চিব-সহ একাধিক জনকে গ্রেফতার করেছে। দাঙ্গা-সহ বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। পুলিশের দাবি, আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশকে হেয় করার একটি গভীর চক্রান্ত ছিল এই ঘটনা।

এ প্রসঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী লেখেন, “সত্যের স্বার্থে শান্তিপূর্ণ ও অহিংস প্রতিরোধ আমাদের গৌরবময় ঐতিহ্য, যা আমরা মহাত্মা গান্ধী এবং অসংখ্য ভারতীয় পূর্বপুরুষের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি।” তাঁর দাবি, “১.৪ বিলিয়ন ভারতীয়ের স্বার্থে” প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা জরুরি, যারা আন্তর্জাতিক চাপের কাছে নতিস্বীকার করে দেশের স্বার্থের সঙ্গে আপস করছে বলে অভিযোগ।

তিনি আরও বলেন, “জনগণের কণ্ঠস্বর তোলার জন্য যুব কংগ্রেসের সঙ্গীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত নিন্দনীয় ও লজ্জাজনক। কংগ্রেস পার্টি যুব কংগ্রেসের নির্ভীক সৈনিকদের পাশে দৃঢ়ভাবে রয়েছে।”

তবে এই ‘শার্টলেস’ প্রতিবাদ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। শুধু বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ নয়, বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র শরিক দল সমাজবাদী পার্টি (এসপি) ও রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি)-র তরফেও এই ঘটনার সমালোচনা করা হয়েছে। ২৭০-রও বেশি অবসরপ্রাপ্ত আমলা ও বিচারপতিও যৌথ বিবৃতিতে একে “জাতীয় মর্যাদার প্রতি বিকৃত বিশ্বাসঘাতকতা” এবং “জনশৃঙ্খলার উপর আঘাত” বলে আখ্যা দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ১৬ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ওই সামিটে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ ছিল এবং ‘দায়িত্বশীল এআই ও বৈশ্বিক অগ্রগতি’ ছিল মূল আলোচ্য বিষয়। ফলে প্রতিবাদ ও জাতীয় মর্যাদার প্রশ্নে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।

Leave a Reply