ওয়াশিংটন, ২৪ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস) : মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে প্রবাহিত বিপুল পরিমাণ বিদেশি অর্থায়নের উপর নতুন করে কড়া নজরদারির ঘোষণা করল ট্রাম্প প্রশাসন। এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক শিক্ষাগত সম্পর্কের উপর নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং স্বচ্ছতা ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
মার্কিন শিক্ষা দফতর ও পররাষ্ট্র দফতরের শীর্ষ কর্মকর্তারা যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে একটি নতুন পাবলিক রিপোর্টিং পোর্টাল চালুর ঘোষণা দেন। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলি বিদেশি অনুদান ও চুক্তির তথ্য সহজে প্রকাশ করতে পারবে এবং সাধারণ মানুষও তা পর্যালোচনা করতে পারবেন।
মার্কিন শিক্ষা আইনের উচ্চশিক্ষা আইনের ধারা ১১৭ অনুযায়ী, ফেডারেল তহবিলপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে এক ক্যালেন্ডার বছরে একক বিদেশি উৎস থেকে ২,৫০,০০০ ডলারের বেশি অনুদান বা চুক্তি পেলে তা রিপোর্ট করা বাধ্যতামূলক। এই বিধানটি ১৯৮৬ সালে যুক্ত করা হয়।
জনকূটনীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সারা রজার্স বলেন, এই বিধান আমেরিকানদের বিদেশি প্রভাব ও অর্থায়ন সম্পর্কে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য তৈরি।
কর্তৃপক্ষের দাবি, এতদিন এই রিপোর্টিং বাধ্যবাধকতার প্রয়োগ সবসময় ধারাবাহিক ছিল না। শিক্ষা দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালেই মার্কিন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলি বিদেশি উৎস থেকে ৫.২ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ পাওয়ার কথা জানিয়েছে। ১৯৮৬ সাল থেকে মোট বিদেশি অনুদানের পরিমাণ প্রায় ৬৭ বিলিয়ন ডলার।
শিক্ষা দফতরের আন্ডার সেক্রেটারি নিকোলাস কেন্ট স্পষ্ট করেন, এটি বিদেশি অর্থের উপর নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং রিপোর্টিং বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ। তাঁর কথায়, এই পদক্ষেপ বিদেশি অর্থায়নের উপর “টর্চলাইট ফেলা”-র মতো, যাতে আইনপ্রণেতা ও গবেষকেরা বুঝতে পারেন কোনও প্রভাব বা শর্ত জড়িত আছে কি না।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ২০২৫ সালে চীন প্রায় ৫৩০ মিলিয়ন ডলার এবং যুক্তরাজ্য প্রায় ৬৩০ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছে। তালিকার শীর্ষে রয়েছে কাতার, যার অনুদানের পরিমাণ প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলার।
পূর্ববর্তী পর্যালোচনায় দেখা গিয়েছিল, একাধিক প্রতিষ্ঠান রিপোর্টিংয়ে গাফিলতি করেছে। উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় চার বছর ধরে রিপোর্ট দাখিল করেনি, যদিও তাদের শত শত মিলিয়ন ডলারের রিপোর্টযোগ্য লেনদেন ছিল। একইভাবে, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়এর কমপ্লায়েন্স কাঠামোকেও “অপর্যাপ্ত” বলা হয়।
আগে ১৯টি সিভিল তদন্ত শুরু করা হয়েছিল, যার ফলে অ-অনুসরণের হার প্রায় ৩৫ শতাংশে নেমে এসেছে বলে জানানো হয়।
পররাষ্ট্র দফতরের সম্পৃক্ততার কারণ হিসেবে গবেষণা নিরাপত্তা ও মেধাস্বত্ব সুরক্ষার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, সংবেদনশীল প্রযুক্তি, যেমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর ও বায়োটেকনোলজি ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বাড়ার ফলে বিদেশি অর্থায়নের প্রভাব খতিয়ে দেখা জরুরি হয়ে উঠেছে।
ভারত-আমেরিকা একাডেমিক ও প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব ক্রমশ গভীরতর হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। প্রশাসন স্পষ্ট করেছে, বিদেশি অর্থায়ন সম্পর্কে কোনও “মূল্যায়নমূলক রায়” দেওয়া হচ্ছে না; বরং আইন মেনে তথ্য প্রকাশ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।

