ওয়াশিংটন, ২৪ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস) : ভারত একটি “প্রযুক্তির শক্তিধর দেশ” এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ক্ষেত্রে হোয়াইট হাউসের বৈশ্বিক উদ্যোগের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। এমন মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ বিজ্ঞান উপদেষ্টা।
প্রেসিডেন্টের সহকারী এবং হোয়াইট হাউস বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নীতি কার্যালয়ের পরিচালক মাইকেল ক্র্যাটসিওস ফক্স নিউজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ভারত একটি প্রযুক্তির শক্তিধর দেশ। বিপুল সংখ্যক প্রকৌশলী স্নাতক তৈরি করছে, শক্তিশালী দেশীয় মেধা রয়েছে এবং উন্নতমানের পণ্য ও অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করছে।
সম্প্রতি ভারত সফর শেষে তিনি ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে অংশীদার দেশগুলোর মধ্যে “বাস্তব এআই সার্বভৌমত্ব” বিস্তারে ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
ক্র্যাটসিওস সতর্ক করে বলেন, উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে এআই গ্রহণের ব্যবধান প্রতিদিন বাড়ছে। আমরা বিশ্বকে দুটি বিস্তৃত শ্রেণিতে দেখি, এবং প্রতিটির জন্য ভিন্ন সরঞ্জাম প্রয়োজন, বলেন তিনি। উন্নয়নশীল দেশগুলো যদি স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, জ্বালানি অবকাঠামো, কৃষি এবং নাগরিকমুখী সরকারি পরিষেবার মতো খাতে এআই প্রয়োগে অগ্রাধিকার না দেয়, তবে তারা “একটি মৌলিক সন্ধিক্ষণে পিছিয়ে পড়ার” ঝুঁকিতে থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এই প্রেক্ষাপটে হোয়াইট হাউস আমেরিকান এআই এক্সপোর্টস প্রোগ্রাম কর্মসূচিকে এগিয়ে নিচ্ছে। ক্র্যাটসিওস বলেন, অনেক দিন ধরে উন্নয়ন সহায়তা চাওয়া দেশগুলোর সামনে একটি ভ্রান্ত পছন্দ ছিল। আমরা বিশ্বাস করি, এই কর্মসূচি বিশ্বস্ত ও সেরা প্রযুক্তি, গ্রহণের বাধা কাটাতে অর্থায়ন এবং বাস্তবায়ন সহায়তার একটি বিকল্প পথ দিচ্ছে।
তিনি “বাস্তব এআই সার্বভৌমত্ব”-এর ব্যাখ্যায় বলেন, নিজ দেশের মানুষের কল্যাণে সেরা প্রযুক্তির মালিকানা ও ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং বৈশ্বিক রূপান্তরের মাঝে নিজস্ব জাতীয় গতিপথ নির্ধারণ করাই হলো প্রকৃত সার্বভৌমত্ব।
এআই মানদণ্ড প্রসঙ্গে তিনি জানান, উদ্ভাবনের পরবর্তী ধাপ “এজেন্ট”-কে ঘিরেই আবর্তিত হবে। এই প্রেক্ষিতে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেকনোলজি (এনআইএসটি) এজেন্টভিত্তিক সিস্টেমের জন্য মানদণ্ড তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে সেগুলো নিরাপদ ও কার্যকরভাবে পারস্পরিক সমন্বয়ে কাজ করতে পারে।
অর্থায়নকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে ক্র্যাটসিওস বলেন, “এআই স্ট্যাক ব্যয়বহুল”, বিশেষ করে ডেটা সেন্টার, সেমিকন্ডাক্টর এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন অবকাঠামোর ক্ষেত্রে। এ জন্য ইউএস ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ফিন্যান্স কর্পোরেশন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি-আমদানি ব্যাংক-সহ বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে সহায়তা জোরদার করছে ওয়াশিংটন।
তিনি “মার্কিন টেক কর্পস” গঠনের ঘোষণাও দেন। তাঁর ভাষায়, এরা হবে পিস কর্পস স্বেচ্ছাসেবকদের মতো, তবে প্রযুক্তিনির্ভর। প্রযুক্তিগত পটভূমি রয়েছে এমন ব্যক্তিদের আমরা খুঁজছি, যারা এআই সমাধান বাস্তবায়নে সহায়তা করতে আগ্রহী।
ক্রাটসিওস আরও বলেন, প্রযুক্তি আন্তর্জাতিকভাবে ভাগ করে নেওয়ার ক্ষেত্রে ভারত দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় অংশীদার। মার্কিন হাইপারস্কেলার সংস্থাগুলোর ভারতে ডেটা সেন্টার ও গবেষণা কার্যক্রম রয়েছে, যা মার্কিন এআই ইকোসিস্টেমের সঙ্গে সংযুক্তিকে আরও গভীর করেছে।

