কলকাতা, ২৪ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ শ্রেণিভুক্ত ভোটারদের নথিপত্রের বিচারিক যাচাই প্রক্রিয়া শুরু হতেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী চার জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারিক আধিকারিকরা বিশেষ নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন। নিরাপত্তা লঙ্ঘনের অভিজ্ঞতার পরই তাঁরা এই আবেদন করেছেন বলে সূত্রের খবর।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সোমবার থেকে বিচারিক যাচাই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সীমান্তবর্তী যে চার জেলায় এই দাবি উঠেছে, সেগুলি হল— মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর 24 পরগনা এবং দক্ষিণ 24 পরগনা। এর মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় আন্তর্জাতিক সীমান্তের পাশাপাশি বিস্তীর্ণ উপকূলীয় অঞ্চলও রয়েছে।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বিচারিক আধিকারিকদের আশঙ্কার বিষয়টি ভারতের নির্বাচন কমিশন নোট নিয়েছে এবং তাঁদের জন্য সর্বাত্মক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজ্য পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে।
প্রায় ৫০ লক্ষ ভোটারের নথি ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ শ্রেণিতে চিহ্নিত হয়ে বিচারিক যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে সর্বাধিক নথি মুর্শিদাবাদ জেলায়, যদিও সঠিক সংখ্যা এখনও কমিশনের তরফে প্রকাশ করা হয়নি।
সিইও দপ্তরের এক কর্তার দাবি, প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে নথি ‘গ্রহণ’ বা ‘বাতিল’-এর সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করতে বিচারিক আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, যাচাই প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিদিনের রিপোর্ট কলকাতা হাইকোর্ট-এ জমা দিতে হবে।
বর্তমান সূচি অনুযায়ী, বিচারাধীন মামলাগুলি বাদ দিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা। বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর পরিপূরক ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে, যেখানে যাচাইয়ে উত্তীর্ণ যোগ্য ভোটারদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
তবে প্রায় ৫০ লক্ষ নথির বিচারিক যাচাই ২৮ ফেব্রুয়ারির সময়সীমার আগে সম্পূর্ণ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে প্রশাসনিক মহলে। গত সপ্তাহে ভোটার পরিচয়পত্র সংক্রান্ত অসঙ্গতি চিহ্নিত নথির বিচারিক তত্ত্বাবধানের নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। এরপর থেকেই প্রক্রিয়াটি সক্রিয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে কলকাতা হাইকোর্ট।
_____

