News Flash

  • Home
  • বিদেশ
  • পাকিস্তানে ক্যান্সারে আক্রান্ত শিশুদের ৩০ শতাংশেরও কম বাঁচে: বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ
Image

পাকিস্তানে ক্যান্সারে আক্রান্ত শিশুদের ৩০ শতাংশেরও কম বাঁচে: বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ

ইসলামাবাদ, ১৬ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): পাকিস্তানে প্রতিবছর প্রায় ১০ হাজার শিশু ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। কিন্তু দেরিতে রোগ নির্ণয়, সীমিত চিকিৎসা পরিকাঠামো এবং আর্থিক সমস্যার কারণে আক্রান্তদের ৩০ শতাংশেরও কম শিশু বেঁচে থাকে বলে এক সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে জানালেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। সোমবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

রবিবার ‘হেলথ ওয়াইজ’ শীর্ষক শিশু ক্যান্সার বিষয়ক এক আলোচনাসভায় বিশেষজ্ঞরা জানান, বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর প্রায় চার লক্ষ শিশু ও কিশোর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রই নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলিতে। এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইন্দাস হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্য নেটওয়ার্ক। বিষয়টি প্রকাশ করেছে পাকিস্তানের সংবাদ মাধ্যম।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত দেশগুলিতে শিশু ক্যান্সার রোগীদের বেঁচে থাকার হার ৮০-৮৫ শতাংশের মধ্যে। কিন্তু উন্নয়নশীল দেশগুলিতে দেরিতে রোগ ধরা পড়া এবং বিশেষায়িত চিকিৎসার অভাবের কারণে এই হার অনেক কম।

শিশু রক্তরোগ ও ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. নঈম জাব্বার বলেন, সময়মতো চিকিৎসা পেলে অধিকাংশ শিশু ক্যান্সার নিরাময়যোগ্য। তাঁর কথায়, “প্রাপ্তবয়স্কদের ক্যান্সারের মতো শিশুদের ক্যান্সারের নির্দিষ্ট কারণ সাধারণত স্পষ্ট নয় এবং জীবনযাত্রার সঙ্গে এর সরাসরি যোগ নেই। সঠিক সময়ে উপযুক্ত চিকিৎসা শুরু হলে নিরাময়ের হার ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।”

তবে পাকিস্তানে বেঁচে থাকার হার কম হওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন— উপসর্গ চিহ্নিত করতে দেরি, পর্যাপ্ত সহায়ক চিকিৎসার অভাব, প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞের ঘাটতি, বিশেষায়িত কেন্দ্রে সীমিত প্রবেশাধিকার এবং মাঝপথে চিকিৎসা বন্ধ করে দেওয়ার উচ্চ হার।

শিশুদের মধ্যে যে ক্যান্সারগুলি বেশি দেখা যায় তার মধ্যে রয়েছে লিম্ফোমা, মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের টিউমার, অস্থির টিউমার, লিউকেমিয়া, সফট টিস্যু সারকোমা, নিউরোব্লাস্টোমা, উইলমস টিউমার এবং রেটিনোব্লাস্টোমা।

বিশেষজ্ঞরা জানান, সময়মতো শুরু হলে কেমোথেরাপি, অস্ত্রোপচার ও রেডিওথেরাপির মতো চিকিৎসা পদ্ধতি কার্যকর হতে পারে।

মিডিয়ার প্রশ্নের উত্তরে ডা. শুমাইল আশরাফ জানান, করাচির শিশু রক্তরোগ ও ক্যান্সার বিভাগে প্রতি বছর প্রায় এক হাজার নতুন রোগী আসে। ২০১৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১৬ হাজারেরও বেশি শিশুর চিকিৎসা হয়েছে এবং বর্তমানে প্রায় ১,৩০০ শিশু চিকিৎসাধীন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয়ই প্রাণ বাঁচাতে পারে। তাই অভিভাবক, শিক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী ও সংবাদমাধ্যমের সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে প্রতিটি শিশু সমানভাবে বাঁচার সুযোগ পায়।

Releated Posts

ভারত-আফগানিস্তান সম্পর্কের অগ্রগতিতে পাকিস্তান নিরাপত্তাহীনতা ও হতাশায় ভুগছে: বিদেশ মন্ত্রক

নয়াদিল্লি, ৪ আগস্ট (আইএএনএস): ভারত-আফগানিস্তান সম্পর্ক নিয়ে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের সাম্প্রতিক মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে মঙ্গলবার বিদেশ মন্ত্রক…

ByByNews Desk Aug 4, 2026

শেখ হাসিনার আসন্ন ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে সরকারের কোনও ভূমিকা নেই, জানাল বিদেশ মন্ত্রক

নয়াদিল্লি, ৪ আগস্ট (আইএএনএস): বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বুধবার নির্ধারিত গণমাধ্যমের সঙ্গে ভার্চুয়াল মতবিনিময় অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভারত…

ByByNews Desk Aug 4, 2026

পিওকে-তে বিক্ষোভের আবহে সংবাদমাধ্যমের উপর দমন-পীড়নের অভিযোগ, উদ্বেগ প্রকাশ আন্তর্জাতিক সংগঠনের

নিউ ইয়র্ক, ৪ আগস্ট (আইএএনএস): পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) চলমান অস্থিরতার মধ্যে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে…

ByByNews Desk Aug 4, 2026

বাংলাদেশকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্রে’ পরিণত করা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার ও বিএনপির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের অভিযোগ

ঢাকা, ৪ আগস্ট (আইএএনএস): তথাকথিত ‘জুলাই আন্দোলন’-এর দুই বছর পর বাংলাদেশ কার্যত একটি ‘ব্যর্থ রাষ্ট্রে’ পরিণত হয়েছে বলে…

ByByNews Desk Aug 4, 2026
Scroll to Top