রায়পুর, ১ জানুয়ারী : ছত্তিশগড়ের রায়পুর জেলায় অনুষ্ঠিত এক ‘হিন্দু সম্মেলনে’ তিন দিনের সফরে গিয়ে, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সর্সংঘচালক (প্রধান) মোহন ভাগবত সামাজিক ঐক্য এবং স্বদেশী উদ্যোগের প্রতি এক শক্তিশালী বার্তা প্রদান করেন। তিনি বলেন, “ঐক্যের প্রথম পদক্ষেপ হল মনের মধ্যে বিভেদ এবং বৈষম্যের অনুভূতি দূর করা এবং সবাইকে নিজের মতো মনে করা।”
ভাগবত তাঁর ভাষণে আরও উল্লেখ করেন, “গৃহে মাতৃভাষার ব্যবহার, ভারতীয় পোশাকের সম্মান এবং ‘লোকালকে ভোকাল’ হওয়া—এই সবই আমাদের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি আমাদের দেশীয় পণ্য এবং সংস্কৃতিকে সমর্থন করি, তাহলে আমরা সত্যিই আত্মনির্ভরশীল হতে পারি।”
ভাগবত জাতি ও অর্থের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বিচার বন্ধ করার কথা বলেন এবং সমাজের মধ্যে পারিবারিক মূল্যবোধের গুরুত্বে জোর দেন। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল একতা, স্থিতিশীলতা এবং সম্মিলিত শক্তির প্রয়োজনীয়তা। তিনি বলেন, “শুধু আলোচনা করতে থাকলে কিছুই অর্জন হবে না, আমাদের একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে।”
ভাগবত তাঁর বক্তৃতায় বাংলাদেশে সম্প্রতি হিন্দুদের ওপর হামলার বিষয়টিও তুলে ধরেন। ১৮ ডিসেম্বর দীপু চন্দ্র দাসের প্রাণনাশক আক্রমণ এবং ২৪ ডিসেম্বর অমৃত মণ্ডলের হত্যা সহ সম্প্রতি হওয়া কয়েকটি লক্ষ্যে হামলা প্রসঙ্গে কথা বলেন। এছাড়া, এক সপ্তাহ আগে ভজেন্দ্র বিশ্বাসের হত্যাও উল্লেখ করেন তিনি।
এ সময়, ভাগবত বলেন, “এমন ক্রান্তিকালে আমাদের ঐক্য বজায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সমাজকে একত্রিত হয়ে এই সংকটের মোকাবিলা করতে হবে।” তাঁর মতে, সঙ্ঘ পরিবার তথা সমাজের প্রতিটি সদস্যকে একসাথে এই সমস্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে এবং নিজেদের শক্তির মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে।
ভাগবত চমৎকারভাবে নতুন প্রজন্মের প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন, যাতে তারা দেশের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যকে সম্মান জানায়। তিনি বিশ্বাস করেন যে, পরিবারের ভেতরে মুল্যবোধের প্রতিফলন খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই মূল্যবোধই আগামী সমাজের ভিত্তি তৈরি করে।
ছত্তিশগড়ে তিন দিনের সফরকালে মোহন ভাগবত বার বার একতা, স্বদেশী পণ্যের ব্যবহার, এবং সামাজিক সমতা বিষয়ে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরেন, যা উপস্থিত ভক্ত-শ্রোতাদের মধ্যে এক বিশেষ প্রভাব ফেলেছে।



















