রাজস্থানে ইউএলবি ও পঞ্চায়েত নির্বাচন বিলম্ব ইস্যু সুপ্রিম কোর্টে; আজ শুনানি

জয়পুর, ১৯ ডিসেম্বর: রাজস্থানে নগর স্থানীয় সংস্থা (ইউএলবি) ও পঞ্চায়েত রাজ প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন দীর্ঘদিন ধরে না হওয়ার বিষয়টি এবার সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছেছে। পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও নির্বাচন না হওয়ায় এই ইস্যুতে দায়ের করা মামলার শুনানি আজ সর্বোচ্চ আদালতে হওয়ার কথা।

প্রাক্তন বিধায়ক সংযম লোধা একটি স্পেশাল লিভ পিটিশন (এসএলপি) দায়ের করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। তিনি গত মাসে রাজস্থান হাই কোর্টের দেওয়া সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেছেন, যেখানে রাজ্য সরকারকে নির্বাচন আয়োজনের জন্য অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। লোধার দাবি, অবিলম্বে নির্বাচন না হলে তা সংবিধান লঙ্ঘনের শামিল।

পিটিশনে বলা হয়েছে, সংবিধান অনুযায়ী স্থানীয় স্বশাসন সংস্থার নির্বাচন তাদের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বা অবিলম্বে পরে অনুষ্ঠিত হওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু নির্বাচন না করে রাজ্য সরকার প্রশাসক নিয়োগ করেছে, যা সংবিধান এবং সুপ্রিম কোর্টের বাধ্যতামূলক নির্দেশনার স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, রাজ্যের অন্তত ৫২টি নগর স্থানীয় সংস্থার মেয়াদ এক বছরেরও বেশি আগে শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু এখনও নির্বাচন হয়নি। এর ফলে স্থানীয় স্বশাসন ব্যবস্থার সাংবিধানিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ১৪ নভেম্বর রাজস্থান হাই কোর্ট রাজ্য সরকারকে ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিলের মধ্যে পৌর নির্বাচন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয়। সংযম লোধার দাবি, সংবিধান ও আইনগত স্পষ্ট বিধান থাকা সত্ত্বেও হাই কোর্ট এভাবে দীর্ঘ সময় দেওয়ায় ভুল করেছে।

পিটিশনে বলা হয়েছে, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির বদলে প্রশাসক নিয়োগ করা ৭৪তম সংবিধান সংশোধনের পরিপন্থী। পাশাপাশি রাজস্থান মিউনিসিপ্যাল অ্যাক্ট, ২০০৯-এর ৭ ও ১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী কোনও পৌর সংস্থার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা বাড়ানোর সুযোগ নেই বলেও দাবি করা হয়েছে।

লোধার বক্তব্য, নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ায় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা দুর্বল হচ্ছে, জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়নে জবাবদিহি কমছে এবং সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, যা সামগ্রিকভাবে প্রশাসনিক ব্যবস্থার ক্ষতি করছে।

ইচ্ছাকৃত ও বিদ্বেষমূলকভাবে পৌর নির্বাচন বিলম্বিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে পিটিশনে বলা হয়েছে, কোনও আইনেই অনির্দিষ্টকালের জন্য ইউএলবি নির্বাচন স্থগিত রাখার অনুমতি নেই। তাই সংবিধানের ১৩৬ অনুচ্ছেদের অধীনে সুপ্রিম কোর্টের অবিলম্বে হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।

পিটিশনে আরও দাবি করা হয়েছে, ১৪ নভেম্বরের রায় দেওয়ার সময় হাই কোর্ট রাজস্থান মিউনিসিপ্যাল অ্যাক্ট, ২০০৯-এর বিধান এবং সময়মতো নির্বাচন আয়োজন সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের একাধিক বাধ্যতামূলক রায়—যেমন পাঞ্জাবসহ বিভিন্ন রাজ্যে অবিলম্বে নির্বাচন করানোর নির্দেশ—যথাযথভাবে বিবেচনা করেনি।