নদীভাঙন রোধের কাজে অনিয়মের অভিযোগ, নিম্নমানের বোল্ডার তৈরিতে ক্ষোভ এলাকাবাসীর
আগরতলা, ১৯ ডিসেম্বর: নদীভাঙন রোধের নামে সরকারি অর্থের অপচয় ও চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠল গোলাঘাটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। বুড়িমা নদীর পাড় ভাঙন রোধের জন্য ইট, সিমেন্ট ও বালির সংমিশ্রণে বোল্ডার তৈরির কাজ চলছে। তবে কাজের মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে, যা দফতরের কর্মীর বক্তব্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ।
জানা গেছে, নদীভাঙন প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে ওয়াটার রিসোর্স ডিপার্টমেন্ট এক ঠিকাদারকে কাজের বরাত দিয়েছে। কাজের গুণমান যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরের একজন কর্মচারীকেও নিয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ, সেই দফতরের কর্মীর চোখের সামনেই দিনের আলোয় চলছে অনিয়ম। ইট ও সিমেন্ট ব্যবহার না করে প্রায় শুধুমাত্র বালু দিয়েই বোল্ডার তৈরি করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে ঠিকাদার সরকারি টাকা হাতানোর চেষ্টা করছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
এই অনিয়মের ছবি ও দৃশ্য প্রত্যক্ষ করা গেছে গোলাঘাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের বুড়িমা নদীর তীরে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঠিকাদার নিজের পকেট ভারী করতে অত্যন্ত নিম্নমানের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, আর দফতরের কর্মী কার্যত অসহায় দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন। এ বিষয়ে দফতরের ওই কর্মচারীকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, তাঁর কথা কেউ শুনছে না। প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ না করেই ঠিকাদার নিজের ইচ্ছেমতো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, আগরতলা থেকে বরাতপ্রাপ্ত এক ঠিকাদার এই কাজ পরিচালনা করছেন। তিনি প্রায়শই প্রভাবশালী নেতাদের নাম ভাঙিয়ে এলাকাবাসীদের মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এই নিম্নমানের কাজের ফলে যেকোনো সময় বুড়িমা নদীর ভাঙনে আশপাশের এলাকা, মানুষের বসতবাড়ি ও সম্পত্তি নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে পারে। এই পরিস্থিতিতে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে অবিলম্বে নিম্নমানের কাজ বন্ধ করা এবং পুরো বিষয়টির উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি উঠেছে।

