সিউল, ১২ ডিসেম্বর : বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারের নীতিকে “সঠিক দিক” বলে উল্লেখ করেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন। শুক্রবার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ এই তথ্য জানায়।
মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শাসক ওয়ার্কার্স পার্টি অব কোরিয়ার সম্প্রসারিত প্লেনারি সভায় অংশ নিয়ে কিম এই মূল্যায়ন করেন। এ বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল চলতি বছরের নীতি বাস্তবায়নের পর্যালোচনা এবং আগামী বছর শুরুর দিকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পার্টি কংগ্রেসের প্রস্তুতি।
তবে কিম যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়াকে কেন্দ্র করে উত্তর কোরিয়ার নীতিগত অবস্থান কীভাবে মূল্যায়ন করেছেন—এ বিষয়ে রাষ্ট্রীয় মিডিয়া বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
কেসিএনএ জানায়, ২০২৫ সালের নীতি বাস্তবায়ন পর্যালোচনায় কিম দেশের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ নীতিকে বহু নিরাপত্তা সমস্যা “কার্যকরভাবে ও যথাযথভাবে” সমাধান করেছে বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্যে প্রতিরক্ষা নীতিকে বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মধ্যেও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে “সঠিক দিকেই অগ্রসর” বলে তুলে ধরা হয়।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সহায়তার জন্য উত্তর কোরিয়ার সৈন্য প্রেরণ প্রসঙ্গে কিম বলেন, এই পদক্ষেপ বিশ্বকে দেখিয়েছে যে উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনী “চিরজয়ী বাহিনী এবং আন্তর্জাতিক ন্যায়ের প্রকৃত রক্ষক।
আগামী নবম পার্টি কংগ্রেসের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ডাব্লিউপিকে–এর নিয়মে সংশোধনী আনার প্রস্তাবও আলোচনায় উঠে আসে। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, উত্তর কোরিয়া হয়তো কিমের “দুই শত্রু রাষ্ট্র” নীতিগত অবস্থানকে দলীয় নিয়মে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের শেষদিকে এক বৈঠকে কিম ঘোষণা করেছিলেন যে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্ক “পরস্পর বৈরী দুটি রাষ্ট্রের সম্পর্ক”—এবং দক্ষিণের সঙ্গে পুনর্মিলন বা একীকরণের প্রচেষ্টা চালানো হবে না।
নবম পার্টি কংগ্রেস আগামী জানুয়ারি অথবা ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়াকে কেন্দ্র করে উত্তর কোরিয়ার বৈদেশিক নীতির দিকনির্দেশনা, প্রতিরক্ষা এবং অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার—সবই প্রকাশ করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শেষবার পার্টি কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২১ সালের জানুয়ারিতে।



















