নয়াদিল্লি, ২ ডিসেম্বর : ভারত-বাংলাদেশ ঠাণ্ডা সম্পর্কের মধ্যে, সম্প্রতি কিছু সাবধানী সঙ্কেত পাওয়া যাচ্ছে সম্পর্কের উষ্ণতা ফিরিয়ে আনার। এই উদ্যোগ শুরু হয়েছিল বাংলাদেশ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) এর গোপন সফর দিয়ে, এরপর প্রধানমন্ত্রী মোদির খালেদা জিয়ার অসুস্থতার বিষয়ে বার্তা শিরোনামে এসেছে।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত, তবে গত কয়েক সপ্তাহে কিছু সঙ্কেত দেখাচ্ছে যে, এই সম্পর্কের মধ্যে উষ্ণতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে, যা মূলত শেখ হাসিনার সরকারী বিষয়গুলো নিয়ে। প্রথম সঙ্কেত আসে বাংলাদেশ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) এর দিল্লি সফরের মাধ্যমে। এরপর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে প্রকাশিত বার্তা ভারতের ইচ্ছাকে নির্দেশ করছে, যাতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্থিতি পুনঃস্থাপন করা যায়।
ভারত জানে যে, শেখ হাসিনার পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে, সম্পর্কের মধ্যে চাপ থাকবে যতক্ষণ না এক্সট্রাডিশন ইস্যু সমাধান হয়। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, যিনি ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন, সম্প্রতি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতায় ৫০০ জনের বেশি নিহত হয়েছিল, যার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচনের সময় খালেদা জিয়া এবং তার দল বিএনপি ব্যতীত হাসিনার বিরোধী দল এখন মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী মোদির পোস্টটি খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে, এবং তার দ্রুত সুস্থতার জন্য “সর্বোচ্চ সহায়তা” দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। বিএনপি, যা ভারতের সঙ্গে কিছুটা খারাপ সম্পর্ক বজায় রেখেছিল, মোদির এই ভালোবাসার বার্তাটি প্রশংসা করেছে।
বাংলাদেশের রাজনীতি দীর্ঘকাল ধরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষেই ছিল। তবে, বর্তমানে বিএনপি দলটি নির্বাচনে জিততে প্রস্তুতি নিচ্ছে, এবং জরিপ অনুযায়ী, তারা আগামী ২০২৬ সালের নির্বাচনে ব্যাপক আসন পেতে পারে। বিএনপি-র প্রাক্তন মিত্র জামায়াত-ই-ইসলামী, যা হিংসাত্মক কার্যক্রমের জন্য নিষিদ্ধ হলেও, এখন ধীরে ধীরে পুনরায় রাজনৈতিক পরিসরে প্রবেশ করছে।
ভারত চিন্তিত যে, জামায়াত যদি নির্বাচনে বড় বিজয়ী হয়, তাহলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে পাকিস্তান এবং চীনের প্রভাব বৃদ্ধি পাবে, যা ভারতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক হতে পারে। শশী থারুরও এই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তিনি বলেছেন, “এটা ভবিষ্যতের জন্য একটি উদ্বেগজনক সংকেত।”
বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খালিলুর রহমান সম্প্রতি দিল্লি সফর করেন, যেখানে তিনি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। যদিও তারা সাংবাদিকদের সামনে কিছুই প্রকাশ করেননি, তবে বাংলাদেশের এনএসএ’র এই সফর বাংলাদেশের ভারতীয় সম্পর্কের প্রতি একটি ইতিবাচক সঙ্কেত বলে দেখা হচ্ছে।
এই সফরের পরিপ্রেক্ষিতে, ঢাকা এবং দিল্লির মধ্যে সম্পর্কের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য উভয় দেশের উদ্যোগের লক্ষণ স্পষ্ট হয়েছে, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে নতুন মীমাংসার ইঙ্গিত দেয়।
বাংলাদেশের ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচন ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। যদিও শেখ হাসিনার অবস্থা সম্পর্কের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ, তবে ভারত এবং বাংলাদেশ উভয় পক্ষই বুঝতে পারছে যে, সম্পর্কের স্থিতি পুনঃস্থাপন এবং উন্নতি সম্ভব। ভারতে বিএনপি দলের রাজনৈতিক শক্তি বৃদ্ধির দিকে নজর রেখে, আগামী নির্বাচনে ভারতীয় কূটনীতির অগ্রাধিকারের মধ্যে থাকবে খালেদা জিয়া ও বিএনপি-র সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন।

