এসআইআর-এর চাপ সহ্য করতে না পেরে আরেক বিএলও-র আত্মহত্যা, হৃদয়বিদারক ভিডিও ভাইরাল

মুরাদাবাদ, ১ ডিসেম্বর : ভোটার তালিকার এসআইআর সংক্রান্ত অতিরিক্ত কাজের চাপ সহ্য করতে না পেরে এক বুথ লেভেল অফিসার আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ। মৃতের নাম সর্বেশ সিংহ (৪৬), পেশায় একজন সহকারী শিক্ষক। তিনি গত ৭ অক্টোবর থেকে প্রথমবারের মতো নির্বাচনী দায়িত্ব পান।

আত্মহত্যার আগে ধারণ করা এক ভিডিওতে সর্বেশকে অশ্রুসিক্ত অবস্থায় বলতে শোনা যায়, “মা, আমার মেয়েদের দেখো। আমি কাজটা শেষ করতে পারলাম না। আমি কঠোর পরিশ্রম করেছি, কিন্তু পারিনি… আমি চরম পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, “আমাকে কেউ দোষ দিও না। আমার পরিবারের কাউকে এ বিষয়ে প্রশ্ন কোরো না।”

রবিবার ভোরে তাঁর স্ত্রী বাবলি দেবী বাড়ির স্টোররুমে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে তৎক্ষণাৎ পুলিশকে জানান। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয় দুই পাতার একটি আত্মহত্যার চিঠি, যা জেলা বেসিক শিক্ষা আধিকারিকের উদ্দেশে লেখা। নোটে তিনি উল্লেখ করেন যে দিনরাত পরিশ্রম করেও তিনি SIR-এর লক্ষ্য পূরণ করতে পারছেন না এবং উদ্বেগের কারণে রাতের ঘুমও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। চিঠিতে আরও জানান, তাঁর চার মেয়ের মধ্যে দু’জন অসুস্থ এবং সবকিছু সামলাতে না পেরে তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করছেন।

গত কয়েক সপ্তাহে বিভিন্ন রাজ্যে একাধিক বুথ লেভেল অফিসার-এর আত্মহত্যার ঘটনা সামনে এসেছে। অভিযোগ, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত চাপ ও কাজের বোঝা এই ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার কারণ হয়ে উঠছে। বর্তমানে ভোটার তালিকার এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে মোট ১২টি রাজ্যে, যার মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ, উত্তর প্রদেশ, কেরল, ছত্তিশগড়, গোয়া, গুজরাত, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ও তামিলনাড়ু।

পুলিশ কর্মকর্তা অশীষ প্রতাপ সিংহ জানান, “সুইসাইড নোটে স্পষ্ট লেখা আছে, তিনি বিএলও দায়িত্বের চাপ সামলাতে পারেননি। আইনি প্রক্রিয়া চলছে।”

জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অনুজ কুমার সিংহ বলেন, “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তাঁর কাজের মান অসাধারণ ছিল। তাঁকে সাহায্য করতে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী নিয়োজিত করা হয়েছিল। পরিবারকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।”

ঘটনার পর নির্বাচন কমিশন এসআইআর-এর সময়সীমা এক সপ্তাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে ভোটারদের তথ্য যাচাইয়ের জন্য অতিরিক্ত সুযোগ প্রদান করা যায়। পাশাপাশি বুথ লেভেল অফিসার এবং বুথ লেভেল এজেন্টদের অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত ও ডুপ্লিকেট ভোটারদের তালিকা জমা দেওয়ার জন্য আরও সাত দিন অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে। কমিশনের এই সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাজের চাপ কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নির্বাচনী প্রস্তুতির অতি-অতিরিক্ত চাপ যে মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনছে, এই ঘটনা তার মর্মস্পর্শী দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে এসেছে।