নয়াদিল্লি, ১ ডিসেম্বর: বিশ্ব এইডস দিবস উপলক্ষে সোমবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা এইচআইভি/এইডস মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষা করানোর উপর জোর দেন। প্রতি বছর ১ ডিসেম্বর বিশ্বব্যাপী এইডস দিবস পালন করা হয় সচেতনতা বাড়াতে, বিশেষ করে শিশু, কিশোরী ও তরুণীদের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি চিহ্নিত করা এবং রোগকে ঘিরে সামাজিক কুসংস্কার দূর করার লক্ষ্যে। এ বছরের প্রতিপাদ্য— “ওভারকামিং ডিসরাপশন, ট্রান্সফর্মিং দ্য এইডস রেসপন্স”।
এক্স–এ পোস্ট শেয়ার করে নাড্ডা লিখেছেন, “বিশ্ব এইডস দিবস আমাদের শেখায় এইচআইভি/এইডএস সম্বন্ধে সচেতন হওয়ার, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার এবং প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষা করানোর গুরুত্ব। এটি আক্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার পাশাপাশি ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করারও সুযোগ।”
তিনি আরও বলেন, “সমাজ হিসেবে আমাদের উচিত সচেতনতা বৃদ্ধি, এইচআইভি/এইডস–কে ঘিরে থাকা বৈষম্য ও অপবাদ মোকাবিলা করা এবং সবার জন্য সমান স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তা দেওয়া। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা তৈরি করতে পারি সুস্থ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যৎ।”
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী আনুমানিক ৪০.৮ মিলিয়ন মানুষ এইচআইভি নিয়ে বসবাস করছিলেন। একই বছরে এই রোগ–সম্পর্কিত কারণে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৬.৩০ লক্ষ মানুষের, আর নতুনভাবে সংক্রমিত হয়েছেন ১৩ লক্ষ মানুষ।
ভারতও এইডস মোকাবিলায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে জাতীয় এইডস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি (NACP)–এর মাধ্যমে।
২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশে— নতুন এইচআইভি সংক্রমণ কমেছে ৪৮.৭%, এইডস–সম্পর্কিত মৃত্যু হ্রাস পেয়েছে ৮১.৪%, মা থেকে শিশুর সংক্রমণ কমেছে ৭৪.৬%।
এছাড়া, এইচআইভি পরীক্ষা বৃদ্ধি পেয়েছে ২০২০–২১ সালের ৪.১৩ কোটির থেকে ২০২৪–২৫ সালে ৬.৬২ কোটিতে, এআরটি চিকিৎসা গ্রহণকারী সংখ্যা বেড়েছে ১৪.৯৪ লাখ থেকে ১৮.৬০ লাখে, ভাইরাল লোড পরীক্ষা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে ৮.৯০ লাখ থেকে ১৫.৯৮ লাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগ প্রতিরোধ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণই এইচআইভি/এইডস নিয়ন্ত্রণের মূল চাবিকাঠি।

