চণ্ডীগড় পুলিশের বড় মাদক বিরোধী অভিযান, দুটি আন্তঃরাজ্য মাদক সিন্ডিকেট ধরা পড়ল

চণ্ডীগড়, ২৫ নভেম্বর : চণ্ডীগড় পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ দুইটি বড় আন্তঃরাজ্য মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ১২ জন মাদক পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। এই অভিযানে মাদকদ্রব্য হিসেবে কোকেইন, হেরোইন এবং সিনথেটিক ড্রাগ উদ্ধার হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৮.১৫ কোটি টাকা।

গোপন সূত্রের ভিত্তিতে ক্রাইম ব্রাঞ্চের একটি দল সেক্টর ৪০ থেকে আশ্বিনী কুমার আলিয়াস আশুকে গ্রেপ্তার করে, তার কাছে থেকে ৪৭.৮০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। তার গ্রেপ্তারির পর আরও ৩ জনের গ্রেপ্তার হয়— সোনু আলিয়াস কাল্লু আলিয়াস ডন এবং সালমান, সেক্টর ৫৬ ও মালোয়া এলাকা থেকে। পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ১০০.৬০ গ্রাম হেরোইন এবং ২.০১ গ্রাম আইস উদ্ধার করা হয়।

এছাড়া, সুনীল আলিয়াস দারচি ও অনুপের গ্রেপ্তারির পর জানা যায়, এক প্রধান আন্তঃরাজ্য মাদক সরবরাহকারী, বন্তি (ধাকোলি, জিরাকপুর) এর নাম। বন্তির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৫২৩ গ্রাম কোকেইন, ২০.৬৪ লাখ টাকা নগদ, সোনালী অলংকার এবং অন্যান্য প্রমাণাদি উদ্ধার করা হয়।

মোট ১.০২ কেজি কোকেইন, ১৯৭ গ্রাম হেরোইন, ২.০১ গ্রাম আইস, ২১ লাখ টাকা নগদ, সোনালী অলংকার এবং দুটি গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে জানা যায়, বন্তি কোকেইন সরবরাহ করত দিল্লির সাপ্লায়ার সানি থেকে এবং অন্যান্য সিনথেটিক ড্রাগ আফ্রিকান নাগরিকদের মাধ্যমে আসত।

আরেকটি পৃথক অভিযানে ১৯ নভেম্বর, চণ্ডীগড় থেকে রাহুল এবং আরুণ কুমারকে গ্রেপ্তার করে ১৪৬.৩৬ গ্রাম কোকেইন উদ্ধার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও গ্রেপ্তার হয় ইন্দ্রজিৎ সিং (রোহিত), টিঙ্কু, আকাশ এবং বিশাল। তদন্তে জানা যায়, আরুণ কুমারই মূল মাদক সরবরাহকারী, যে দিল্লি থেকে কোকেইন এনে একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে টাকা পাচার করত। রাহুল মাদক বিতরণের জন্য “ড্রপ পয়েন্ট” ব্যবহার করত, যেখানে ছবি এবং জিপিএস পিন পাঠানো হত ক্রেতাদের কাছে।

এছাড়া, অপরাধীরা ১৮৪ গ্রাম কোকেইন, ২৭৯ গ্রাম হেরোইন, ৫ লাখ টাকা নগদ, সোনালি-রূপালী গয়না, দুটি গাড়ি, একটি নোট কাউন্টিং মেশিন এবং অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করেছে।

ক্রাইম ব্রাঞ্চের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুই সিন্ডিকেটই অত্যন্ত সংগঠিত ও পরিকল্পিতভাবে কাজ করছিল। তারা ডিজিটাল পেমেন্ট, প্রক্সি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং আন্তঃরাজ্য সরবরাহ চেইন ব্যবহার করত। এই দুটি মামলার তদন্ত এখনও চলছে।

এই অভিযানগুলি শুধুমাত্র মাদক পাচারের বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ, বরং একটি বড় স্নায়ু যুদ্ধের অংশ যা মাদকদ্রব্যের চাহিদা এবং সরবরাহ চেইনকে ভেঙে দিতে সাহায্য করবে।