নদিয়া, ১২ নভেম্বর : ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই বাংলা জুড়ে ঘটছে নানা অভূতপূর্ব ঘটনা। কোথাও দীর্ঘদিন পর স্ত্রীর কাছে ফিরছেন বৃদ্ধ, কোথাও আবার নথির সমস্যা নিয়ে আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে। নদিয়ার একটি বৃদ্ধাশ্রমে ঘটে গেছে এমনই এক অভিনব ঘটনা। যেখানে আগে সন্তানরা অভিভাবকদের খোঁজও নিতেন না, সেখানে এখন হঠাৎ সন্তানদের ভিড় বেড়ে গেছে—এটা সবই এসআইআর-এর জেরে।
নদিয়ার রানাঘাটের পুরাতন চাপড়া এলাকায় অবস্থিত জগদীশ মেমোরিয়াল বৃদ্ধাশ্রমে এমনই এক দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। এই বৃদ্ধাশ্রমে বর্তমানে ৪৪ জন প্রবীণ বাস করছেন। ছুটির দিনে কিছু সন্তানরা তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে আসলেও, গত কয়েক দিন ধরে সেখানে ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’-এর সংখ্যা বেড়ে গেছে। বৃদ্ধাশ্রমের সম্পাদক গৌরহরি সরকার জানান, ‘‘এসআইআর চালু হওয়ার পর থেকেই সন্তানরা হঠাৎ করে বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। আগে যাঁরা একেবারে আসতেন না, এখন তাঁরা প্রায় প্রতিদিনই ফোন করছেন এবং কেউ কেউ এসে দেখাও করছেন।’’
বৃদ্ধাশ্রমের দেখাশোনাকারী রুমা দেবনাথ জানালেন, ‘‘এটা খুব অদ্ভুত মনে হচ্ছে। গত সপ্তাহখানেক ধরে যা কিছু ঘটছে, তা আগে কখনো ঘটেনি। বেশিরভাগ সময়ই বাবা-মায়ের খোঁজও নিতেন না। এখন সন্তানরা এসে জানতে চাইছে, মা-বাবার কেমন আছে, কিছু প্রয়োজন আছে কি না।’’
এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর, রাজ্যের বিভিন্ন বৃদ্ধাশ্রমে এমন দৃশ্য দৃশ্যমান হচ্ছে। অনেকেই জানাচ্ছেন, তাদের বাবা-মায়ের কাছে এমন নথি নেই, যেগুলোর দরকার এসআইআর প্রক্রিয়ায়। সেই কারণে সন্তানরা বাবা-মায়ের কাছে ছুটে যাচ্ছেন।
বৃদ্ধাশ্রমে বসবাসকারী প্রবীণরা মিশ্র অনুভূতি প্রকাশ করছেন এই নতুন পরিবর্তন নিয়ে। কেউ সন্তানের ফোন পেয়ে চোখের জলে ভাসছেন, আবার কেউ এটি নিছক এক “নথির টান” হিসেবে দেখছেন। এক বৃদ্ধা জানালেন, ‘‘সন্তানদের কাছে না থাকলে বাবা-মা হওয়ার কি মানে? কিন্তু এখন তো আসলে নথির টানেই তাঁরা কাছে এসেছে।’’
এসআইআর-র ফলে বৃদ্ধাশ্রমে এক ধরনের আতঙ্কও বিরাজ করছে। যেহেতু ভোটার তালিকায় নাম থাকা এখন সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাতে বহু প্রবীণ এই পরিবর্তনকে স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করছেন। তবে, তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ সতর্কভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
এমন পরিস্থিতিতে, এসআইআর প্রক্রিয়া কিভাবে সামনের দিনগুলিতে পরিবর্তন আনবে, তা নিয়ে রাজ্যের অনেকেই উদ্বিগ্ন। তবে, বর্তমানে প্রবীণরা একে “নথির টান” হিসেবেই দেখছেন, আর সন্তানের আসা-যাওয়ায় কিছুটা দ্বন্দ্বও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

