ত্রিপুরায় ক্ষমতার প্রত্যাবর্তন হলে বিজেপির কর্মী সর্মথকদের চামড়া তুলে ফেলবে সিপিআইএম, কিন্তু কংগ্রেস শত্রুতার রাজনীতি করে না : সুদীপ

আগরতলা, ৬ নভেম্বর: ত্রিপুরায় ক্ষমতার প্রত্যাবর্তন হলে বিজেপির কর্মী সর্মথকদের চামড়া তুলে ফেলবে সিপিআইএম। কিন্তু কংগ্রেস শত্রুতার রাজনীতি করে না। তাই কংগ্রেসের দরজা সব রাজনৈতিক দলের কর্মী, সমর্থক ও দলত্যাগীদের জন্য খোলা রয়েছে। আজ কংগ্রেসের গণঅবস্থানে সিপিআইএম ও বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করলেন বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ।

বিধায়ক শ্রী বর্মণ বলেন, আগরতলাকে স্মার্ট সিটি গড়ার নামে বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে কোনও দৃশ্যমান উন্নয়ন নেই। বিগত দিনে আগরতলার যেসব এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জল জমে যেত, আজও সেই একই অবস্থা বজায় রয়েছে। বর্ষাকালে শহরের বেশ কয়েকটি অংশে জলমগ্ন পরিস্থিতি তৈরি হয় যা প্রমাণ করে উন্নয়নের নামে শুধু দেখানো হচ্ছে কাজ হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, স্মার্ট সিটি প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা খরচ করা হলেও এর সুফল সাধারণ মানুষ পাচ্ছে না। রাজ্যের রাস্তাঘাটের বেহাল দশা বিশেষ করে জাতীয় সড়কের অবস্থাই সরকারের উন্নয়ন নীতির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে। গোটা রাজ্যে কমিশনের রাজনীতি চলছে। কারা কতটা কমিশন পাবে সেটাই এখন প্রশাসনের মূল উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দেশের রাজনীতি নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে কংগ্রেস বিধায়ক বলেন, বিজেপি সরকার দেশের ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করছে। স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে শুরু করে ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সবকিছুকে তারা নতুনভাবে রচনা করতে চাইছে। কিন্তু ইতিহাস বিকৃত করে কখনও দেশ গঠন হয় না, বরং সমাজ বিভক্ত হয়। এদিন রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রের বেহাল চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, বিজেপি সরকারের আমলে শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে। রাজ্যের একাধিক সরকারি স্কুল বন্ধ হয়ে পড়েছে। এমনকি বর্তমানে ৩৪০টি স্কুল রয়েছে যেখানে একজন মাত্র শিক্ষক দিয়ে পঠনপাঠন চালানো হচ্ছে। শিক্ষার এই অবনতি রাজ্যের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বিপজ্জনক সংকেত। তিনি আরও জানান, শিক্ষকদের নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে ছাত্রছাত্রীরা মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একটি রাজ্যের উন্নয়ন নির্ভর করে তার শিক্ষাব্যবস্থার উপর, কিন্তু ত্রিপুরায় সেই শিক্ষার বেহাল দশা।

তাঁর কথায়, রাজ্যের যুবসমাজ আজ চাকরির সন্ধানে দিশেহারা। বেকারত্ব ভয়াবহ আকার নিয়েছে। সরকারি চাকরিতে নিয়োগ বন্ধ, বেসরকারি ক্ষেত্রে বিনিয়োগ নেই। যুবক-যুবতীরা বাধ্য হয়ে অন্য রাজ্যে পাড়ি দিচ্ছে। এদিকে, ভারতের অর্থনীতি আজ তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। জিনিসপত্রের দাম প্রতিনিয়ত বাড়ছে। সাধারণ মানুষ জীবনযাত্রার খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। ঋণের বোঝায় জর্জরিত নাগরিকরা। অথচ বিজেপি সরকার এই নিয়ে কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না, বরং ধর্মের নামে সমাজকে বিভাজিত করছে।

তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে মাদক ব্যবসা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। নেশার রমরমা বাণিজ্য সমাজের ভিত্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। যুব সমাজ বিপথে যাচ্ছে, কিন্তু সরকার চোখ বন্ধ করে আছে। সমাজের নৈতিক অধঃপতন ঘটছে প্রতিনিয়ত। রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে কংগ্রেস বিধায়ক বলেন, যদি সিপিআইএম আবার ক্ষমতায় আসে রাজ্যে ফের খুন, বাড়িঘর ধ্বংস, ভয়ভীতি সৃষ্টি সহ একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড শুরু হবে। আর বিজেপি সরকার রাজ্যে ভয় ও বিভাজনের রাজনীতি করছে। কিন্তু কংগ্রেস শত্রুতার রাজনীতি করে না। তাই কংগ্রেসের দরজা সব রাজনৈতিক দলের কর্মী, সমর্থক ও দলত্যাগীদের জন্য খোলা, আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। আমরা ঐক্যের রাজনীতি করি, বিভাজনের নয়।

শেষে তিনি বলেন, দেশ ও রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। জনগণকে এখনই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই অব্যবস্থার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। কংগ্রেস জনগণের পাশে আছে, দেশের বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে। এই অবস্থায় চুপ থাকা মানে অন্যায়ের সঙ্গী হওয়া। সময় এসেছে গণআন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার পুনরুদ্ধার করার।