নয়াদিল্লি, ৩১ অক্টোবর: আইনজীবী–অভিযুক্তের সম্পর্কের গোপনীয়তা ও মৌলিক অধিকারের সুরক্ষায় তদন্ত সংস্থাগুলির ক্ষমতায় রাশ টানল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল, অভিযুক্তের পক্ষে সওয়াল করা বা আইনগত পরামর্শ দেওয়া কোনো আইনজীবীকে তদন্ত সংস্থা ইচ্ছামতো তলব করতে পারবে না।
প্রধান বিচারপতি ডি.ওয়াই. গাভাই, বিচারপতি কে. ভিনোদ চন্দ্রন ও এন. ভি. অঞ্জারিয়া–র বেঞ্চ শুক্রবার ‘পুনরায়: মামলা ও সংশ্লিষ্ট ইস্যু তদন্তের সময় আইনী মতামত প্রদানকারী বা পক্ষের প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবীদের তলব করা’ শিরোনামে গৃহীত সুপ্রিম কোর্টের স্বপ্রণোদিত মামলায় এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করে।
তদন্তকারী অফিসার কোনো আইনজীবীকে তলব করতে পারবেন না, যদি না তা ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়ম , ২০২৩–এর ১৩২ ধারা–য় বর্ণিত ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির আওতায় পড়ে। এই ধরনের তলবের আগে সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ –এর অনুমোদন আবশ্যক। তলবপত্রে অবশ্যই কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে তলব করা হচ্ছে ও কোন ব্যতিক্রম ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে — তা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করতে হবে, যাতে বিচারিক পর্যালোচনার সুযোগ থাকে।বেঞ্চ জানিয়েছে , আইনজীবীকে তলব করা মানে অভিযুক্তের মৌলিক অধিকার ও ‘লইয়ার–ক্লায়েন্ট প্রিভিলেজ’-এর উপর আঘাত। এমন পদক্ষেপ আইনজীবী সমাজের স্বাধীনতা নষ্ট করতে পারে।
আদালত আরও বলেছে, আইনজীবীদের আইনগত পরামর্শ দেওয়া বা আদালতে পেশ হওয়া–কে কোনোভাবেই অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত করা যাবে না। অ্যাটর্নি জেনারেল আর. ভেঙ্কটারামণি ও সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা উভয়েই আদালতে বলেন যে, শুধুমাত্র আইনগত পরামর্শ দেওয়ার জন্য কোনো আইনজীবীকে তলব করা অনুচিত।
তবে মেহতা জানান, যদি কোনো আইনজীবীর বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপে সরাসরি অংশগ্রহণের অভিযোগ থাকে, তাহলে সেই ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম প্রযোজ্য হতে পারে, তবে তা অবশ্যই বিচারিক নজরদারির মধ্যে থাকতে হবে।
এর আগে সুপ্রিম কোর্ট অ্যাডভোকেটস-অন-রেকর্ড অ্যাসোসিয়েশন আদালতের কাছে আবেদন জানায়, আইনজীবীদের তলবের বিষয়টি যেন স্পষ্টভাবে নিয়মবদ্ধ করা হয়, যাতে তদন্ত সংস্থাগুলি আইনজীবী–ক্লায়েন্ট সম্পর্কের গোপনীয়তা বা স্বাধীনতা অপব্যবহার না করতে পারে। দুই বিচারপতি কে. ভি. বিষ্ণনাথন ও এন. কে. সিংহ–এর বেঞ্চও আগেই পর্যবেক্ষণ করেছিলেন যে, এমন তলব আইনজীবী সমাজের স্বায়ত্তশাসনের জন্য হুমকি।

