News Flash

  • Home
  • মুখ্য খবর
  • পুলিশ সুপারের নাম ভাঙিয়ে তোলাবাজির অভিযোগ, আমতলীর কনস্টেবলের বিরুদ্ধে থানায় মামলা
Image

পুলিশ সুপারের নাম ভাঙিয়ে তোলাবাজির অভিযোগ, আমতলীর কনস্টেবলের বিরুদ্ধে থানায় মামলা

আগরতলা, ২৬ অক্টোবর:
ত্রিপুরা পুলিশের এক কনস্টেবলের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ সুপারের নাম ভাঙিয়ে তোলাবাজি, ভয় দেখিয়ে সম্পত্তি দখল, এমনকি স্থানীয়দের হুমকি দেওয়ার মতো একাধিক অভিযোগে এবার থানার দ্বারস্থ হয়েছেন আমতলী থানাধীন ফুলতলী মতিনগর এলাকার বাসিন্দারা। অভিযুক্ত কনস্টেবল হলেন ফুলতলী মতিনগরের বাসিন্দা আমির ভূঁইয়া, পিতা কদম আলী ভূঁইয়া, যিনি বর্তমানে পশ্চিম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কর্মরত।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে আমির ভূঁইয়া এলাকার সাধারণ মানুষদের বিভিন্নভাবে ভয় দেখিয়ে ও প্রভাব খাটিয়ে বেআইনি কাজ করছে। অভিযোগ, পশ্চিম জেলার পুলিশ সুপারের নাম ব্যবহার করে এলাকায় তোলাবাজি চালাচ্ছে সে। শুধু তাই নয়, সহজ-সরল ও আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষদের পুলিশি প্রভাব দেখিয়ে তাদের বৈধ সম্পত্তি দখল করার চেষ্টাও করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এলাকাবাসীদের দাবি, মাত্র দশ বছরের মধ্যে অভিযুক্ত কনস্টেবল প্রায় দেড় কোটি টাকার দুটি বিলাসবহুল বাড়ি তৈরি করেছে—যার টাকার উৎস নিয়ে গভীর সন্দেহ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি মতিনগর এলাকার এক বৃদ্ধ ব্যক্তির জমি জোর করে দখল করার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ওই বৃদ্ধের বাড়িতে তালা লাগিয়ে তাঁকে জায়গা থেকে উচ্ছেদ করার হুমকি দেয় আমির ভূঁইয়া।

রবিবার এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক গ্রামসভা অনুষ্ঠিত হলে সেখানে উপস্থিত মান্যগণ্য ব্যক্তিদের সামনেই আমির ভূঁইয়া উত্তেজনা সৃষ্টি করে ও বয়স্ক ব্যক্তিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সে সভায় উপস্থিত সকলকে হুমকি দেয় রাতারাতি পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করিয়ে জেলে পাঠাবে।

এরপর ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা রবিবার দুপুরে আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের সদর দপ্তরেও ঘটনার বিষয়ে জানানো হয়েছে। আমতলী থানার ওসি পরিতোষ দাস জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই অভিযুক্ত কনস্টেবলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিন থানার সামনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ভুক্তভোগী বাসিন্দারা জানান, আমির ভূঁইয়া দীর্ঘদিন ধরেই এলাকার সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে বেআইনি উপার্জন করছে। তারা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন—অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সরকারি কর্মচারী এমন অপকর্মের সাহস না পায়।
স্থানীয় মহলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, রাজ্য পুলিশ প্রশাসন নিজের সম্মান রক্ষার্থে এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

Releated Posts

শোকসন্তপ্ত পাঁচ পরিবারের পাশে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা

আগরতলা, ১৯ সেপ্টেম্বর: নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ৮-টাউন বড়দোয়ালি এলাকার পাঁচ দলীয় কর্মীর পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুতে শনিবার তাঁদের বাড়িতে…

ByByNews Desk Sep 19, 2026

পুরভোটে ২১টি নগর সংস্থায় ৭৮৪টি ভোটকেন্দ্রের খসড়া বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

আগরতলা, ১৯ সেপ্টেম্বর: ত্রিপুরার ২১টি নগর স্থানীয় সংস্থার আসন্ন নির্বাচনের জন্য ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ ও খসড়া বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রক্রিয়া…

ByByTaniya Chakraborty Sep 19, 2026

কারসাজি করা ভিডিও ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির অভিযোগ, এসইসি-র দ্বারস্থ তিপরা মথা

আগরতলা, ১৯ সেপ্টেম্বর: আসন্ন ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে দলের নামে একটি কারসাজি করা ভিডিও ছড়িয়ে…

ByByTaniya Chakraborty Sep 19, 2026

নির্বাচনী রণকৌশল ঠিক করতে বিজেপির সাংগঠনিক বৈঠক

আগরতলা, ১৯ সেপ্টেম্বর: ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে দলের রণকৌশল নির্ধারণ করতে আজ আগরতলার মুক্তধারা অডিটোরিয়ামে ভারতীয় জনতা পার্টির সাংগঠনিক…

ByByTaniya Chakraborty Sep 19, 2026
Scroll to Top